ইসরায়েলে উটকো ঝামেলা আর রাজনীতি যেন এক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে পাইলটদের হাতাহাতির রোমহর্ষক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন। ঘটনাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।
বুধবার আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে। মূলত ঠিক কী ঘটেছিল ওই ফ্লাইটে? জানা গেছে, মাঝ আকাশে হুট করেই ফ্লাইটের প্রধান পাইলটের ওপর চড়াও হন সহকারী পাইলট। ককপিটের ভেতরেই দুজনের মধ্যে ছুরি চালানোর মতো ভয়ানক মারামারি বেধে যায়। প্রাণ বাঁচাতে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে! পরে ক্রু ও যাত্রীরা সাহসিকতা দেখিয়ে সহকারী পাইলটকে বাগে আনেন এবং অন্য পাইলটরা বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান।
এই নাটকীয় বিমান ঘটনার পরেই শুরু হয় রাজনৈতিক ডামাডোল। সামনেই ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন। ঠিক তার আগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দেশের সুরক্ষায় বড়সড় হামলার আশঙ্কার কথা বলে এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেন। এর পরপরই তলব করা হয় বিরোধীদলীয় নেতা লাপিদকে।
লাপিদের দাবি, ওই নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে ফ্লাইটের পাইলট কাণ্ডের কোনো নামগন্ধও ছিল না! অথচ নেতানিয়াহুর দল ও সরকারি মুখপাত্ররা এখন ওই বিমান ঘটনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তাকে মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া কড়া পোস্টে লাপিদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলের স্পর্শকাতর নিরাপত্তাকে পুঁজি করে বর্তমান সরকার সস্তা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে।
নির্বাচনের আগে বিমানঝুঁকি আর রাজনৈতিক কথার লড়াইয়ে এখন উত্তপ্ত তেল আবিবের রাজনীতি।
সান নিউজ/রাজীব