একসময়ের জমজমাট বিনোদনকেন্দ্রগুলো একে একে হারিয়ে যাওয়ার মিছিলে এবার নাম লেখাল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘লাভলী সিনেমা হল’। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই হলটির অবকাঠামো ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের পরিচিত এই স্মৃতিচিহ্নটি খুব শিগগির চিরতরে অতীত হয়ে যাচ্ছে।
চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক শাহাদাৎ হোসেন লিটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আগামী শুক্রবারই হলটি ভাঙার কাজ শুরু হবে। একসময় নিয়মিত বাংলা সিনেমা প্রদর্শনের সুবাদে এই হলটিকে ঘিরে এলাকার নাম পর্যন্ত ‘লাভলী সিনেমা হল মোড়’ হয়ে উঠেছিল। তবে সময়ের পালাবদল, দর্শক খরা এবং রকমারি ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে দীর্ঘদিন ধরেই হলটি অনিয়মিতভাবে ধুঁকছিল।
পুরোনো এই হলের ইট-পাথর ভেঙে গেলেও এর স্মৃতি জিইয়ে রাখার একটা পরিকল্পনা অবশ্য সামনে এসেছে। নির্মাতা শাহাদাৎ হোসেন লিটন জানিয়েছেন, ভেঙে ফেলা ওই জায়গাটায় একটি আধুনিক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। আর সেই নতুন ভবনেই ‘লাভলী’ নামেই ছোট পরিসরে একটি সিনেপ্লেক্স তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে। যদিও সিনেপ্লেক্স নির্মাণের এই পরিকল্পনাটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও পুরোনো হলের নামটুকু অন্তত টিকে থাকার এই খবরে একটু হলেও স্বস্তি মিলছে এলাকাবাসীর মনে।
প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট সাল হয়তো অনেকেরই অজানা, তবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনাপুর এলাকার মানুষের কয়েক প্রজন্মের আবেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই লাভলী সিনেমা হল। শুক্রবার বুলডোজারের আঘাতে হলটি মাটিতে মিশে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকাই ছবির ইতিহাসের আরও একটি পুরোনো পাতার যবনিকা ঘটতে যাচ্ছে।
সান নিউজ/রাজীব