বিগত আমলের নানা অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা আলোচনা করার মধ্যে কোনো সার্থকতা দেখছেন না অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তার মতে, পেছনের দিনের হিসাব মেলাতে গিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে বর্তমানের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা অনেক বেশি জরুরি। জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি যতক্ষণ না পুরোপুরি গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর দাঁড়াচ্ছে, ততক্ষণ কেবল রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সুফল পাওয়া অসম্ভব।
অর্থাৎ, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতাও ম্লান হয়ে যায়।
রাষ্ট্রে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সঠিক তথ্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো প্রশাসন যদি দেশের মূল ডেটা বা পরিসংখ্যান নিয়ে লুকোচুরি খেলে বা ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে, তবে তা প্রকারান্তরে নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করার শামিল।
এই সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে বর্তমান প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিসংখ্যান অধিদপ্তরকে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান প্রশাসন কোনোভাবেই কোনো ধরনের তথ্য বা পরিসংখ্যান গোপন কিংবা বিকৃত করার পক্ষে নয়।
গবেষণালব্ধ ও নির্ভুল তথ্য সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে এবং পুরো পরিসংখ্যান তৈরির প্রক্রিয়াকে যেকোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই দেশ সঠিক উন্নয়নের পথে এগোবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিগত স্বৈরশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, ফ্যাসিবাদের সেই সময়ে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন না করে অযোগ্য ও সুবিধাবাদীদের অপ্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এর ফলে দেশের সীমিত আর্থিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের বড় একটি অংশ বেহিসাবি অপচয়ের শিকার হয়েছে।
তবে সেই দিন পাল্টে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজলভ্য ও নির্ভুল পরিসংখ্যান পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব