এক নজরে: এসআইআর নিয়ে রাহুল-শাহ বিতর্ক
- চ্যালেঞ্জ: রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খোলা মঞ্চে মুখোমুখি বিতর্কে ডেকেছেন।
- শাহর জবাব: রাহুল সংসদে আসুন, দরকারে এসআইআর নিয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে (৫ নভেম্বর, হরিয়ানা)।
- রাহুলের পাল্টা: ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সংসদে শাহ বলেছিলেন, এসআইআর নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। দুই ভিডিও পাশাপাশি দিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, সরকার "বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে"।
- বিজেপির উত্তর: শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশির বক্তব্য, বিভ্রান্ত রাহুল, সংসদে আসতে দ্বিধা কেন।
- মূল প্রশ্ন: বিশেষ অধিবেশনে রাজি হলে এক বছর আগের "আলোচনা সম্ভব নয়" যুক্তি টেকে কি না।
ভোট চুরির অভিযোগ আর ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে আহ্বান জানানোর পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর জবাবকে হাতিয়ার বানিয়েই এবার পাল্টা আক্রমণে নেমেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শাহের দুটি পৃথক বক্তব্যের ভিডিও পাশাপাশি তুলে ধরে তিনি সরকারের অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে দাবি করেছেন।
কয়েক দিন আগে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সরাসরি মুখোমুখি বিতর্কের আমন্ত্রণ জানান। শর্তও রেখেছিলেন উদার। বিতর্ক কোথায় হবে, কবে হবে, কে বিচারকের ভূমিকায় থাকবেন, সবই ঠিক করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন মোদিকে। এমনকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতকেও বিচারক মানতে আপত্তি নেই বলে জানান তিনি। রাহুলের কথায়, সেই মঞ্চে দুজন থাকবেন, সামনে থাকবে সাধারণ মানুষ আর গণমাধ্যম, আর কে দেশের প্রতি অনুগত, কে নয়, তার মীমাংসা হয়ে যাবে সেখানেই।
রাহুলের দাবি, এই বিতর্কে একাধিক স্পর্শকাতর প্রশ্নের উত্তর মিলবে। মন্ত্রিসভাকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি কেন হলো, শিল্পপতি আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলা কীভাবে থেমে গেল, আর কোনো বিদেশি শক্তির অনুগ্রহে কেউ ক্ষমতায় টিকে আছেন কি না, এসব নিয়েই তিনি জবাব চান। তার ভাষায়, বিতর্ক হলে আসল-নকলের ফারাক সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জবাব দেন অমিত শাহ। গত বৃহস্পতিবার হরিয়ানার এক জনসভায় তিনি বলেন, খোলা মাঠে বিতর্কের দরকার নেই, রাহুল বরং সংসদে আসুন। এসআইআর নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও সরকার তৈরি আছে বলে জানান তিনি।
শাহের এই জবাবই শেষ পর্যন্ত রাহুলের হাতে তুলে দিয়েছে বড় সুযোগ। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি শাহকে উদ্দেশ করে লেখেন, মোদিকে যেন বিভ্রান্ত করা না হয়, বরং তাঁকে খোলা বিতর্কে বসতে রাজি করানো হোক। যেকোনো মঞ্চ, যেকোনো সময়, আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এমনটাই ছিল রাহুলের বার্তা। কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, সরকারি শিবির এখন বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে।
কেন তিনি বিভ্রান্তির কথা বলছেন, তা বোঝাতে রাহুল পোস্টের সঙ্গে জুড়ে দেন শাহর দুটি ভিডিও অংশ। দুটিই নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে, আর দুটিই সংসদ ও জনসভায় দেওয়া শাহর বক্তব্য থেকে নেওয়া।
প্রথম ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বরের। তখন এসআইআর নিয়ে আলোচনার দাবিতে সংসদ উত্তাল। সেদিন শাহ বলেছিলেন, এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা সম্ভব নয়, কারণ প্রশ্ন উঠলে তার উত্তর দেবে কে। অর্থাৎ তার যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনের কর্তারা সরকারের অধীনে নন, তাই তাদের হয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় ভিডিওটি চলতি মাসের ৫ তারিখের, হরিয়ানার জনসভার। সেখানে রাহুলকে উদ্দেশ করে শাহ বলেন, মোদির মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন নেই, এসআইআর নিয়ে আলোচনায় বসতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও সরকার প্রস্তুত।
এক বছরের ব্যবধানে একই বিষয়ে এমন বিপরীত অবস্থান দেখিয়েই সরকারের "দ্বিচারিতা" তুলে ধরতে চেয়েছেন রাহুল।
রাহুলের পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে দেরি হয়নি। গভীর রাতে পাল্টা আক্রমণে নামেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের জেরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর তিনিই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এসেছেন।
যোশির বক্তব্য, বিভ্রান্ত সরকার নয়, বিভ্রান্ত রাহুল নিজেই। নির্বাচনে জিতলে সবকিছু ঠিক থাকে, হারলেই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এটাই নাকি রাহুলের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন সংসদে আসার আমন্ত্রণ আর বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন রাহুলের দ্বিধা কেন, এই নাটকই বা কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শাহের পাশে বিজেপি নেতারা দাঁড়ালেও মূল প্রশ্নটি অমীমাংসিত থেকে গেছে। সংসদে এসআইআর আলোচনায় শাহের পুরোনো অনীহা আর তার পক্ষে দেওয়া যুক্তি এতে বাতিল হয়ে যায় না। বরং এখন আলোচনায় সম্মতি দিলে এক বছর আগের সেই যুক্তি ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। রাহুল ঠিক এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন, আর সেই চেষ্টায় আপাতত তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন।
সান নিউজ / রাজীব