ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১.৪৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার সামান্য কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। চলতি বছর এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে ৫৪৭ জনের।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। গত বছর বোর্ডটির পাসের হার ছিল ৫১.৫৪ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ০.১০ শতাংশ পয়েন্ট।
গত চার বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবারই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০.৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.২২ শতাংশে। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৫১.৫৪ শতাংশে নেমে আসে। চলতি বছর আরও কমে হয়েছে ৫১.৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২১.৭৮ শতাংশ পয়েন্ট।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে বিজ্ঞান
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে মোট ১৫ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ হাজার ৫৪৫ জন। পাসের হার ৭৫.৫৬ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১ হাজার ৭১২ জন।
অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে ৫০ হাজার ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ হাজার ৫৫২ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ৫ হাজার ২৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৫৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪২.৭২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩৮ জন।
পাস ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছাত্রীরা
লিঙ্গভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। এ বছর ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন। তাদের পাসের হার ৫৫.০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন।
অন্যদিকে, ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন। তাদের পাসের হার ৪৭.৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১ হাজার ১৮ জন ছাত্র।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে শীর্ষে ময়মনসিংহ
জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৫৯.৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে, শেরপুরে ৪৫.৬৫ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৪৩.৯১ শতাংশ এবং জামালপুরে ৪৩.৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি।
শূন্য পাস করা ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার সাতটি, নেত্রকোনার ছয়টি, জামালপুরের চারটি এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অন্যদিকে, শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ সিটি কলেজ এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ বলেন, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে পাসের হার বাড়লে সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান বিষয়েও তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এসব বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পড়াশোনা ছাড়াই ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা পাস করতে পারেননি, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ফলাফলের আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সান নিউজ/ রাব্বি