জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার । ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
প্রেসিডেন্ট স্টেইনমায়ার

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয়, অর্থনৈতিক সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এক নজরে আজকের বড় খবর:
বিষয় বিবরণ
মূল বক্তব্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না জার্মানি, তবে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট।
বক্তা জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার (বেইজিং সফরকালে পেকিং ইউনিভার্সিটিতে প্রদত্ত বক্তব্য)।
প্রধান নীতি একপাক্ষিক নির্ভরতা কমানো এবং বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বেশি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ করা।
বাণিজ্য ঘাটতি গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি ৩৭০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে, যা চলতি বছর ৪০০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়ানোর পথে।
ইউরোপের অবস্থান চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ এবং আমদানিতে আরও কড়াকড়ি ও নতুন বাণিজ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালুর তাগিদ।
অন্যান্য ইস্যু ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এবং শান্তি আলোচনায় বসার জন্য বেইজিংকে তার কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান।

⚠️ মূল প্রেক্ষাপট: ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি চীনের সঙ্গে শত্রুতা বা কোনো বৈশ্বিক ব্লক বিভাজন চায় না। তবে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি এবং একপাক্ষিক নির্ভরতা এড়াতে দেশটি এখন কৌশলগত ও বাস্তবসম্মত 'ডি-রিস্কিং' বা ঝুঁকি কমানোর নীতিতে হাঁটছে।



চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা জার্মানির নেই। তবে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি বেইজিং সফরে গিয়ে পেকিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সামনে এই কথা স্পষ্ট করে বলেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার। গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে দেওয়া জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়ার্সের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে তার মুখে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্য কখনোই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলা নয়। বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন করে সাজাতে চায় ইউরোপ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্টেইনমায়ার বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এমনভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে উভয় পক্ষই সমানভাবে উপকৃত হয়।

অংশীদারিত্ব তখনই সফল হয়, যখন দুই পক্ষেরই অর্জিত বা পাওয়ার মতো কিছু থাকে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়ার্সও এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা একটি বড় ভুল হবে। এতে ইউরোপের নিরাপত্তা বা সমৃদ্ধি কোনোটিই বাড়াবে না। বরং বেইজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে এবং জ্বালানি, সরবরাহ শৃঙ্খল ও খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে একপাক্ষিক ঝুঁকি এড়াতে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করছে জার্মানি।

দুই বছর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, চীনা সরকার গাড়ি উৎপাদনে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয়। এর জবাবে বেইজিংও ইউরোপের ব্র্যান্ডি, পোর্ক ও দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বসায় এবং কিছু জরুরি খনিজ রপ্তানি সীমিত করে দেয়।

তবে চলতি মাসের শুরুতে বেইজিং ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে চীনা হাইব্রিড গাড়ির রপ্তানি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, বাণিজ্য সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ করার এটি একটি বড় প্রাথমিক পদক্ষেপ।

প্রেসিডেন্ট স্টেইনমায়ার আশাবাদী যে, আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব। এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে যেকোনো সমস্যারই কার্যকর সমাধান রয়েছে। তাছাড়া জার্মানি কখনোই একা কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, বরং পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মিলে একযোগে কাজ করছে।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানির অবস্থানের এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি। অতীতে চীনের বাজারে জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারকদের বিশাল বিনিয়োগ ও বাজার ধরে রাখতে জার্মানি চীনা গাড়ির ওপর আরোপিত শুল্কের বিরোধিতা করেছিল।

কিন্তু গত বছর চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের বাণিজ্য ঘাটতি ৩৭০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর এটি ৪০০ বিলিয়ন ইউরো অতিক্রম করতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

স্টেইনমায়ার পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, ইউরোপ কোনোভাবেই তার নিজেদের শিল্প ভিত্তি ধ্বংস হতে দিতে পারে না। চীন নিজেও যেহেতু শিল্পায়নের মাধ্যমেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছে, তাই বিষয়টি তাদেরও বুঝতে হবে। এদিকে ইউরোপজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

গত শুক্রবার ইইউ মন্ত্রীরা চীনা আমদানির ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপের আহ্বান জানান এবং প্লাস্টিক আমদানির ওপর কোটা নির্ধারণের মতো নতুন বাণিজ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্টেইনমায়ার উল্লেখ করেন, বিশ্ব পুনরায় কোনো পরাশক্তিগুলোর ব্লকে বিভক্ত হয়ে যাক, জার্মানি এমনটি চায় না। চীনের উত্থানকে ইউরোপ ভয় পায় না, কারণ এক পক্ষের উন্নতির অর্থ অন্য পক্ষের পতন নয়।

বাণিজ্য ছাড়াও ইউক্রেন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এবং শান্তি আলোচনায় বসার জন্য চীন যেন তার কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে, সেই তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

আগামী মাসে শেনজেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-পেসফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন শীর্ষ সম্মেলনে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, এমন বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সান নিউজ / রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বোয়ালমারীতে নিষেধের পরদিনই ফুটপাত দখল, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক...

পপির মায়ের স্মৃতিচারণে ওমর সানী, ‘পপির মাও আমার শাশুড়ি’

একসময়ের জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মঙ্...

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে...

ভারত ছাড়ার নোটিশে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে স্বস্তি পেলেন ইমরান খান

ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে জারি করা নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি...

পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে হারিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ৪র্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠা আর্সেনালকে হারিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণী...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা