মিরপুর টেস্ট: প্রথম দিনের হাইলাইটস (এক নজরে)
🏏 সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে সংগ্রহ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান। ⭐ সাদমানের অবিস্মরণীয় ইনিংস: দারুণ ধৈর্য ও চমৎকার ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে (৯৯ রানে) অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। হৃদয়ের লড়াকু ও দুর্ভাগ্যজনক ইনজুরি: দলের বিপদে হাল ধরে ৮৪ বলে ৪২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলার পর পেশির ক্র্যাম্প ও তীব্র ব্যথায় ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন তাওহিদ হৃদয়। 🤝 মূল্যবান জুটি: উইকেটে থিতু হয়ে সাদমান ও হৃদয়ের মধ্যে গড়ে ওঠা জুটিতে রানবোর্ডে আসে গুরুত্বপূর্ণ রান, যা দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। 🌤️ আলোকস্বল্পতায় সমাপ্তি: বিকেলে পর্যাপ্ত আলোর অভাব বা আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা; সাদমানের সঙ্গী হিসেবে ৭ রান নিয়ে উইকেটে অপরাজিত আছেন লিটন দাস।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দীর্ঘ পরিসরের এই লড়াইয়ে ব্যাটারদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে দিন শেষে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে দল।
প্রথম দিনের আলো নিভে আসার ঠিক আগমুহূর্তে আলোকস্বল্পতার বাধায় সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থামতে হয়েছে ইনফর্ম ওপেনার সাদমান ইসলামকে। তবে উইকেটে তার এই দৃঢ়তাই দিনশেষে স্বস্তি এনে দিয়েছে পুরো দলকে।
সকালে টসের ভাগ্য পক্ষে আসায় ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ক্যারিবীয় পেসাররা শুরুতেই আক্রমণ শানান। দলীয় স্কোরবোর্ডে মাত্র ৯ রান জমা হতেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম সাজঘরে ফিরে গেলে প্রাথমিক বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।
সেই চাপ থেকে দলকে টেনে তুলতে উইকেটে দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাদমান ইসলাম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। দুজনের সতর্ক ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৫৯ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ২৮ রান করে মুমিনুল বিদায় নিলে উইকেটে আসেন টাইগারদের টেস্ট কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্ত।

তবে শান্তর সঙ্গে সাদমানের বোঝাপড়া বড় হতে দেয়নি ক্যারিবীয় স্পিনাররা। স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ৪২ বলে ১৯ রান করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক। সফরকারীদের জোরালো আবেদনে প্রথমে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অধিনায়কের বিদায়ের পর দলের রান বাড়ানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তরুণ মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। ওপেনার সাদমানের সঙ্গে তার সাবলীল জুটিতে রানবোর্ড গতি পায়। এই পথেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন ৩১ বছর বয়সী ওপেনার সাদমান। অন্যদিকে, হৃদয়ও আগ্রাসী ভঙ্গিতে রান তুলতে থাকেন। তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটারের জুটিতে যোগ হয় গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রান।
চা বিরতির ঠিক আগপর্যন্ত দারুণ ছন্দে ছিল বাংলাদেশ; বিরতিতে যাওয়ার সময় দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭৭ রান, যেখানে ব্যক্তিগত ৭৯ রান নিয়ে সাদমান ও ৩৬ রান নিয়ে হৃদয় অপরাজিত ছিলেন।

বিরতির পরেও দুই ব্যাটার নিজেদের ইনিংস বড় করার পথে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পেশির চোট বা ক্র্যাম্পের কবলে পড়ে বিপাকে পড়েন তাওহিদ হৃদয়। প্রাথমিক শুশ্রূষা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জশুয়া বিশপের ওভার থেকে একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে তীব্র ব্যথায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ৪২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তরুণ।
হৃদয়ের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। সাদমানের সঙ্গে লিটনের জুটি যখন জমতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বাগড়া দেয় প্রকৃতি। বিকেলে হঠাৎ করেই আলো কমে যাওয়ায় আম্পায়াররা খেলা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে অল্প কিছুক্ষণ খেলা গড়ালেও পূর্ণ ওভার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
ফলস্বরূপ, প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান। উইকেটে অবিচল থেকে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে (৯৯ রানে) অপরাজিত আছেন সাদমান ইসলাম; আর তার সঙ্গী লিটন দাস খেলছেন ৭ রান নিয়ে।
ক্যারিবিয়ান বোলারদের মধ্যে জোমেল ওয়ারিকান দুটি এবং জেডেন সিলস একটি উইকেট শিকার করেছেন। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরির সেই কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন সাদমান।
মিরপুর টেস্ট : প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২১৩/৩ (৭০ ওভার)
ব্যাটিংয়ে অপরাজিত: সাদমান ইসলাম ৯৯* ও লিটন দাস ৭*
প্রধান উইকেটসমূহ: তানজিদ হাসান (৯), মুমিনুল হক (২৮), নাজমুল হোসেন শান্ত (১৯)
রিটায়ার্ড হার্ট: তাওহিদ হৃদয় ৪২ (৮৪ বল)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং: জোমেল ওয়ারিকান ২ উইকেট, জেডেন সিলস ১ উইকেট
সান নিউজ / রাজীব