ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী জানান, গত ৪ নভেম্বর পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি। তার আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতে উল্লেখ করেন, অসুস্থতার কারণে পরীমনির পক্ষে সেদিন আদালতে হাজির হওয়া সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সময় দেওয়া না হলে আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
তবে মামলার বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন না-মন্জুর করে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
যেভাবে মামলার সূত্রপাত
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদের অভিযোগ, রাত সোয়া ১টার দিকে তিনি ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাকে ডেকে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালমন্দ করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও নিজের হাতে থাকা মোবাইল ফোন নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তিনি মাথা ও বুকে আঘাত পান। পাশাপাশি পরীমনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
তদন্তে যা উঠে আসে
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন প্রতিবেদনে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
পরবর্তী সময়ে মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে ৪ নভেম্বর ধার্য তারিখে পরীমনির অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন তিনি।
পরীমনির করা পাল্টা মামলা
বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনিও সাভার থানায় নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
সাননিউজ / সুরাইয়া