-
শান্তি ফেরাতে তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
-
মধ্যস্থতার মিশন: ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনায় সমঝোতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
-
আঞ্চলিক কূটনীতি: সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে তেলের এই আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পাকিস্তান সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যতই চ্যালেঞ্জ আসুক না কেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বাড়তি বোঝা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপানো হবে না।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ স্মরণ করিয়ে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানসহ আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মাসেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরান সফর করেছিলেন। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
গত সপ্তাহেও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই মধ্যস্থতা নিয়ে পাকিস্তান এখনো বেশ আশাবাদী।
দে0শের ভেতরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে সরকার।
এ বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক দেশের রিফাইনারিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রিফাইনারিগুলো যাতে তাদের অতিরিক্ত বা উইন্ডফল প্রফিট (অপ্রত্যাশিত লাভ) থেকে এই বাড়তি চাপ কিছুটা সহ্য করে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে এই বাড়তি ব্যয়ের চাপে পিষ্ট হতে দেবে না।
পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে চালু হওয়া বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন তিনি। এই প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। এখন পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন রুপি খরচ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা বা আইবি এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে মনিটর করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির বাজার নিয়ে বলতে গিয়ে শেহবাজ শরীফ বলেন, এলপিজি সেক্টরে একসময় যে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য ছিল, সেটির অবসান ঘটেছে। এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এলপিজি আমদানি করা হবে। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লটে লটে এগুলোর নিলাম হবে। এর মাধ্যমে সরকার যে লাভ করবে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে।
সামনে শীতকাল আসছে। এই শীতে এলপিজি, এলএনজি এবং পেট্রলের চাহিদা মেটাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও সামুদ্রিক রুট বন্ধ থাকার কারণে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত পারাপারে কিছু বিঘ্ন ঘটছে এবং এলপিজির সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবুও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও খাইবার পাখতুনখোওয়ার (কেপি) পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, কেপি প্রদেশের জন্য ১৬০ বিলিয়ন রুপির একটি বিশেষ উন্নয়ন ও সহায়তা প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ সময় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো সুরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা আমাদের কাছে এক নম্বর, দুই নম্বর এবং তিন নম্বর অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, খাইবার পাখতুনখোওয়ার নতুন সরকার এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলে চলমান সন্ত্রাসবাদ চিরতরে নির্মূল করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
সান নিউজ / রাজীব