ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকতে নিজের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার এক বড় ইঙ্গিত দিলেন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক জট কাটাতে তিনি এবার একটি ‘বিস্তৃত জাতীয় সরকার’ গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে জোট শরিকদের নিয়ে দীর্ঘদিনের সমীকরণে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিললেও, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখার শর্তে তিনি এখনো পুরোপুরি অনড় রয়েছেন।
গত সপ্তাহের সোমবার নিজের ভেরিফাইড এক্স (অধুনা টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বিস্ফোরক পোস্টে নেতানিয়াহু এই সমঝোতার সুর চড়ান। অথচ এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত ২৮ অক্টোবর লিকুদ পার্টির অন্ধ ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কট্টর ‘জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী জোট’ গড়ার বজ্রকঠিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হঠাৎ করে তার এই ভোলবদল ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিজের সাম্প্রতিক এই অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের সাধারণ নাগরিকরা কখনোই এমন কোনো দুর্বল প্রশাসন দেখতে চায় না যা রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে।
ওইসব দলগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ পার্টি’ ২৭টি আসন জিতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে এই একক জয় সত্ত্বেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে তার দল। নেতানিয়াহু পন্থী জোটের ঝুলিতে মোটে ৫৩টি আসন এলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তারা বেশ দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, ইহুদি ও আরব দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে দেশটির সংসদীয় রাজনীতি এখন চরম উত্তাল।
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, নির্বাচনের দিন থেকেই তারা সব পক্ষের জন্য বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রেখেছেন। যে দলগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না, তাদের সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সর্বদলীয় ও শক্তিশালী সরকার গড়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
যদিও নেতানিয়াহু চাইছেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এক নতুন সমঝোতার রাজনীতি শুরু করতে, তবে তার এই পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
জায়েশার, বিয়াখাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং ইসরায়েল বেইতেনুর মতো প্রভাবশালী চারটি প্রধান জায়নবাদী বিরোধী দল ইতিমধ্যেই যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কোনো মন্ত্রীসভায় তারা এক পা-ও ফেলবে না।
ফলে একদিকে আসন সংখ্যার জটিল অঙ্ক এবং অন্যদিকে বিরোধীদের অনড় মনোভাব—ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর অন্ধকারের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক চাণক্য বুদ্ধির জোরে নিজের তরি কূলে ভেড়াতে পারবেন, নাকি দীর্ঘ ক্ষমতার লড়াইয়ে তাকে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়!
সান নিউজ / রাজীব