এক নজরে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা :
-
মূল উদ্যোগ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষকে চাপে ফেলতে এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আসরে নেমেছে চীন।
-
তেহরানের সঙ্গে বৈঠক: বেইজিংয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
-
সংঘাতের জন্য দায়: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটের জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে বেইজিং; পাশাপাশি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
-
বিশেষ দূতের সফর: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন।
-
ওমানের ঐতিহাসিক সফর: ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান (সুলতান হাইথাম বিন তারিক) চীন সফর করলেন এবং তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
-
গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, সাপ্লাই চেইন ও মুদ্রা বিনিময় চুক্তিসহ মোট ১৪টি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে চীন ও ওমান।
-
জ্বালানি ও কৌশলগত রুট: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
-
আলোচনার তাগিদ: মধ্যপ্রাচ্যকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হুঙ্কার আর মধ্যপ্রাচ্যের পুড়তে থাকা বারুদের স্তূপে এবার সরাসরি আসরে নেমে পড়ল ড্রাগন। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক ময়দানে কিছুটা নীরব দর্শক হয়ে থাকার পর, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একহাত নিতে নতুন ছক কষেছে কমিউনিস্ট বেইজিং। বেইজিংয়ের নতুন চালে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব।
তেলের রাজনীতি আর রণকৌশলের চালপ্যাঁচে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক বিরাট ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করল চীন।
গত কয়েকদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী ও থমথমে পরিস্থিতির মাঝে বেইজিংয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সরাসরি তেহরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে মুখোমুখি বসে সংঘাত থামানোর তাগিদ দেন তিনি।
বৈঠকের মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট—এই আঞ্চলিক যুদ্ধ যেভাবে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে অস্ত্র নয়, একমাত্র আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি ফেরানো সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সর্বনাশা সঙ্কটের জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কাঠগড়ায় তুলে আসছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। শুধু তাই নয়, তেহরানের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ড নিরাপত্তার প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুনকে ইরান, ওমান ও সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনৈতিক সফরে পাঠানো হচ্ছে।
একদিকে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যদিকে কৌশলগতভাবে ওমানের সঙ্গে ঐতিহাসিক মৈত্রী চুক্তি সেরে ফেলল চীন। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পথচলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান পা রাখলেন বেইজিংয়ের মাটিতে।
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তা দিয়েছেন খোদ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের পথ সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি বাহক রুট হরমুজ প্রণালির ঠিক পাশেই অবস্থিত ওমান।
এমন ভূ-কৌশলগত গুরুত্বকে মাথায় রেখেই বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শক্তি ও সাপ্লাই চেইনসহ প্রায় ১৪টি মেগা সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এমনকি একটি বিশাল মুদ্রা বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য ভাঙার এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দিয়েছে এই দুই দেশ।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফের স্বাভাবিক করার জোরালো দাবি তোলার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে পরমাণু বা রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের এই হঠাৎ সক্রিয়তা কেবল সাধারণ কোনো কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত মাস্টারস্ট্রোক। একদিকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে রাখার কথা বলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসছে বেইজিং।
বিশ্বমঞ্চের এই প্রবল কূটনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে এবং আমেরিকা-ইসরায়েল অক্ষশক্তি কীভাবে এর পাল্টা জবাব দেবে, সেটাই এখন দেখার সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চকর অপেক্ষা!
সান নিউজ / রাজীব