তামিলনাড়ুর থেনি জেলার একটি উপ-কারাগারে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর ঘটনা। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কারাগারের ভেতর থেকে একসঙ্গে ১৭ জন অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বর্তমান সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন থালাপতি প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল ডিএমকের প্রধান তথা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।
সাম্প্রতিক সময়ে নাগাপট্টিনাম জেলায় বিশাল পরিমাণ মাদক আটকের ঘটনার পর শাসক দলকে কটাক্ষ করে ‘ব্রেকিং ব্যাড পার্টি’ বলে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। এবার কারাগারের কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এতগুলো বন্দির চম্পট দেওয়ার ঘটনাকে বর্তমান সরকারের চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, দক্ষিণাঞ্চলের এই রাজ্যে এখন আক্ষরিক অর্থেই প্রিজন ব্রেক বা কারাগার ভাঙার সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে।
নাটকীয় পলায়ন: তামিলনাড়ুর থেনি জেলার থেক্কমপট্টি উপ-কারাগারে এক বন্দির হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার ভান করার সুযোগ নিয়ে কারারক্ষীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ১৭ জন বিচারাধীন বন্দি।
রক্ষীদের ওপর আক্রমণ: সেলের দরজা খোলার পর পরই কর্তব্যরত রক্ষীদের মারধর করে জখম করে পালিয়ে যায় ওই বন্দিরা। এতে গুরুতর আহত হন কয়েকজন কারারক্ষী।
রাজনৈতিক তোপ: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে একে ‘প্রিজন ব্রেক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা এম কে স্ট্যালিন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তল্লাশি: পলায়নকারী বন্দিদের ধরতে ১৭টি বিশেষ দল গঠন করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৯ জন জেলকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে চারজন বন্দিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমান প্রশাসন কতটা অদক্ষ ও অযোগ্য হলে জেলখানার মতো সুরক্ষিত স্থান থেকেও বন্দিরা অনায়াসে উধাও হয়ে যেতে পারে, সেই প্রশ্নও জোরালোভাবে তুলেছেন তিনি। এর আগে চেন্নাইয়ের পুঝাল কারাগার থেকে দুজন বন্দির পলায়নের প্রসঙ্গ টেনে এনে তামিলনাড়ুর সার্বিক আইনশৃঙ্খলার করুণ দশার চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
বর্তমান প্রশাসনকে সরাসরি ‘সব অর্থেই অযোগ্য’ বলে তোপ দেগে তিনি দাবি করেছেন, ১৯৯৫ সালের পর তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর কারা পলায়নের ঘটনা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে, অথচ তারপরেও এমন নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙার ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে রোমহর্ষক এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। জেল থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৭ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪ জন বন্দিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, কারাগার ভাঙার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই প্রধান কনস্টেবলসহ মোট নয়জন জেলকর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাকি পলাতক অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, বরং পলাতকদের অবস্থান শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন উড়িয়েও চারপাশের এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কারারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়ে সুযোগ বুঝে কারাগারের তালা ও বাধা পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে যায় ১৭ জন অভিযুক্তই। পলাতক বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সান নিউজ / রাজীব