একনজরে প্রধান হাইলাইটস
মূল বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। বিজেপির বিক্ষোভ: খাড়গের পদত্যাগ ও নিঃশর্ত ক্ষমার দাবিতে দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, পাটনা ও ব্যাঙ্গালুরুসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বিজেপি। শীর্ষ মন্ত্রীদের নিন্দা: প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এই ঘটনাকে অত্যন্ত লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রাচীনতম দলের প্রধানের মুখে এ ধরনের ভাষা দেউলিয়া অবস্থাই প্রকাশ করে। কংগ্রেসের কাউন্টার অ্যাটাক: খাড়গের পক্ষে সাফাই গেয়ে তার পুত্র প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, অতীতে বিজেপি নেতারা যা বলেছেন, তাদের কাছ থেকে শিষ্টাচার শিখতে হবে না। ইন্ডিয়া জোটের অবস্থান: শরিক দল আরজেডি খাড়গের ভাষার সামান্য সমালোচনা করলেও অতীতে সোনিয়া বা খাড়গেকে নিয়ে বিজেপির অবমাননাকর মন্তব্যের সময় ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বিমুখী নীতির প্রসঙ্গ তুলেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনীতি। খাড়গের ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং থাড়গের পদত্যাগ ও নিঃশর্ত ক্ষমার দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই, বিহারের পাটনা, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, জম্মু এবং দক্ষিণের ব্যাঙ্গালুরুসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আজ সোমবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
যে বিতর্ক থেকে ঝামেলার সূত্রপাত
গতকাল রোববার বিহারের রাজধানী পাটনায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেসপ্রধান। তার ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে খাড়গে এমন কিছু শব্দচয়ন করেন, যা নিয়ে মুহূর্তেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিহার ও জম্মুর রাজপথে খাড়গের কুশপুত্তলিকা ও পোস্টার পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি কর্মীরা। পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে বিশাল জমায়েত করে কঠোর অবস্থান জানান দেয় তারা।
শাসক দলের কড়া প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনার সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো, আক্রমণাত্মক কথাগুলো কোনো সাধারণ কর্মী বা যুব নেতার মুখ থেকে আসেনি; বরং দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলের প্রধানের আসনে বসে থাকা একজন প্রবীণ নেতা এই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে কংগ্রেস নেতারা উল্টো খাড়গের বিতর্কিত বক্তব্যকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী কংগ্রেস শিবিরের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দলটির পুরো নেতৃত্ব হতাশাগ্রস্ত এবং রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। মৃত বা প্রয়াত বাবা-মাকে এই ধরনের নোংরা রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনার সংস্কৃতি ভারতের ঐতিহ্য নয়। রাহুল গান্ধীর ছায়ায় থেকে কংগ্রেস নেতারা মানসিক বিকারগ্রস্ততার পরিচয় দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস ও সমমনা দলগুলোর পাল্টা সাফাই
এদিকে খাড়গের বক্তব্যের পর শুরু হওয়া সমালোচনার মুখে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতির পুত্র ও কর্ণাটক সরকারের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে পাল্টা তোপ দেগে বলেছেন, যারা এখন নীতিবাক্য শোনাচ্ছেন, তারা অতীতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভাষা ভুলে গেছেন।
তাদের কাছ থেকে ভদ্রতা বা সংস্কৃতির পাঠ নেওয়ার প্রয়োজন নেই কংগ্রেসের।
অন্যদিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দল রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সংসদ সদস্য মনোজ ঝা খাড়গের ভাষা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তুললেও বিজেপির নীতির দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে বিজেপি নেতারা যখন সোনিয়া গান্ধী কিংবা স্বয়ং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে উদ্দেশ্য করে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন, তখন সংবাদমাধ্যম বা রাজনৈতিক মহলে আজকের মতো এমন তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠেনি।
সান নিউজ / রাজীব