টাইগার প্রধান সমস্যা হচ্ছে ওডিআইতে বড় রান তাড়া করতে না পারা । ছবি : বিসিবি
খেলা
কাঠগড়ায় কি তবে প্রস্তুতির গলদ

সাদা বলের ক্রিকেটে কেন বেহাল দশা

স্পোর্টস ডেস্ক
একনজরে বিশেষ হাইলাইটস
  • মূল সমস্যা: টেস্টে দারুণ খেললেও সাদা বলের ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) বাংলাদেশ দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা।
  • বিসিবির উদ্যোগ: সমস্যা সমাধানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে সাড়ে তিন ঘণ্টার ম্যারাথন ‘ব্রেন স্টর্মিং’ সভা।
  • প্রধান গলদ: ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৩০০-৩৫০ রানের বড় স্কোর গড়া বা তাড়া করার পর্যাপ্ত চর্চা বা অভিজ্ঞতা না থাকা।
  • নতুন পরিকল্পনা: ম্যাচ পরিস্থিতির আদলে বিশেষ প্রতিযোগিতাপূর্ণ অনুশীলন সেশন চালু করা, যেখানে ব্যাটারদের ৩২০-৩৫০ রানের লক্ষ্য দিয়ে তা অর্জনের ও বোলারদের তা আটকানোর অনুশীলন করানো হবে।
  • পরিধি: শুধু জাতীয় দল নয়, ক্রিকেটের সব স্তরের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে এই আধুনিক অনুশীলন পদ্ধতি সব পর্যায়ের দলের অনুশীলনেই কার্যকর করা হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বর্তমানে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য স্পষ্ট। যেখানে টেস্ট ফরম্যাটে লাল বলের লড়াইয়ে টাইগাররা দারুণ ইতিবাচক ও লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছে, ঠিক তার বিপরীতে সাদা বলের ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দলের ধারাবাহিক পতন ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের হতাশাজনক পারফরম্যান্স সেই পুরনো ক্ষতকেই যেন আবার উসকে দিয়েছে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থতার আসল কারণ খুঁজতে গত গতকাল বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সমস্যার গভীরে পৌঁছাতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে জাতীয় দল–সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার এক উচ্চপর্যায়ের ‘ব্রেন স্টর্মিং’ বা চিন্তন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কারা ছিলেন এবং মূল ফোকাস কী ছিল
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই ম্যারাথন বৈঠকে শুধু কোচিং স্টাফ বা ক্রিকেটাররাই ছিলেন না; বরং উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়করা, নির্বাচক কমিটির সদস্যরা, হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগ, গেম ডেভেলপমেন্ট এবং ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের শীর্ষস্থানীয় কোচ ও কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাঠে দল খারাপ খেললেই কেবল ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বা তাদের দিকে আঙুল তোলা অন্ধ ও একপেশে নীতি।

বোর্ড বা প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁকফোকর আছে কি না, সেটি খুঁজে বের করতেই এই আত্মমূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তামিমের ভাষ্যমতে, আলোচনায় বেশ কিছু সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা সামনে এসেছে, যেগুলোর টেকসই সমাধান করা হবে ক্রিকেটের সব পর্যায়ে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের দৈন্যদশা: আন্তর্জাতিক লক্ষ্যের সঙ্গে আকাশ-পাতাল ফারাক
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে জয়ের জন্য ৩০০ থেকে ৩৫০ রানের স্কোর গড়া বা তাড়া করা এখন নিয়মিত ঘটনা। বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সংস্কৃতির সঙ্গেই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো কি সেই উচ্চাশার সঙ্গে মানানসই?

ঠিক এই জায়গাতেই মূল গলদ তুলে ধরেছেন বিসিবি সভাপতি। একটি বাস্তব উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বোর্ড চায় জাতীয় দলের ব্যাটাররা ৩০০-৩৫০ রানের লক্ষ্য ঠিক করুক এবং তা সফলভাবে তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে পুরো মৌসুমে সর্বোচ্চ দুই বা তিনটি ম্যাচ এমন পাওয়া যায়, যেখানে এত বড় রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ থাকে।

ঘরোয়া পর্যায়ে যদি এই চাবিকাঠি বা প্র্যাকটিসের সুযোগই না থাকে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হুট করে নামার পর খেলোয়াড়দের পক্ষে জাদুকরিভাবে বড় রান করা বা তাড়া করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

বিসিবির নতুন কর্মপরিকল্পনা: ম্যাচ পরিস্থিতির বাস্তব অনুশীলন
ঘরোয়া কাঠামোর ঘাটতি পোষাতে এবং ক্রিকেটারদের মনস্তাত্ত্বিক ও কারিগরি প্রস্তুতি জোরদার করতে বিসিবি কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সভায় আলোচনা হওয়া একটি যুগোপযোগী সমাধানের কথা জানিয়ে বিসিবি বস তামিম বলেন, এখন থেকে বিশেষ ম্যাচ পরিস্থিতি বা ম্যাচ সিনারিও ভিত্তিক অনুশীলনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অনুশীলনে ৬ থেকে ৭ জন করে ব্যাটার ও বোলার নিয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করা হবে। সেখানে ব্যাটারদের সামনে ৩২০ থেকে ৩৫০ রানের কঠোর টার্গেট ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। ব্যাটারদের লক্ষ্য থাকবে নির্ধারিত ৫০ ওভারের মধ্যে সেই রান তুলে ফেলা, আর বোলারদের কাজ হবে প্রতিপক্ষকে সেই লক্ষ্য ছুঁতে না দিয়ে আটকে রাখা।

Not getting too caught up in qualification mathematics': Bangladesh coach  Simmons shifts focus to standards over ODI World Cup qualification worry

সোজা কথায়, নিছক রুটিন প্র্যাকটিস বাদ দিয়ে এরকম অনুশীলনকে চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে কাজ করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। ৫০ ওভারের ম্যাচে বড় রানের মানসিকতা গড়ে তুলতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে বোর্ড।

শুধু জাতীয় দল নয়, ভবিষ্যৎ পাইপলাইন শক্তিশালী করতে সব পর্যায়ের দলের অনুশীলনেই এ ধরনের আধুনিক সেশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।

বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এই কাঠামোগত সংস্কারগুলো কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

সান নিউজ / রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

নলকূপ বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে উঠলো

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর জন্য মা...

মুন্সীগঞ্জে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রাম থে...

ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষায় নেতানিয়াহু, চোখ নেসেটের ১২০ আসনে

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন...

রাশমিকাকে নিয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বিতর্কে বিজয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও

কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযো...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা