একসময় বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন মডেল শ্রদ্ধা দুবে। তবে ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর এখন তার ঠিকানা ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগার। সেখানে আরও ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে দিন কাটছে তার। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছেন না শ্রদ্ধা, অন্য বন্দিদের সঙ্গেও খুব একটা মিশছেন না।
গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান শিবা শর্মা। ওই আবাসনেই শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন তিনি। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রদ্ধার দাবি, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার পর গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তার বোন রশ্মি এবং তাদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসেন তারা। গ্রেপ্তার এড়াতে ভারতে ফিরে আসার পর নাগপুরে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়।
এদিকে শিবার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধাদের আত্মগোপনে সহায়তাকারীদেরও খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামনে এসেছে শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম। অভিযোগ রয়েছে, আমির ও তার সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং আদিলের জন্য কানপুর, নাগপুর এমনকি নেপালেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমিরকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
গত ২২ অক্টোবর শিবার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে তোলা হয়। পরে আদালত তাদের ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা ও রশ্মিকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে রয়েছেন দুই বোন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি বলেও জানিয়েছে কারা সূত্র।
কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে তাদের আচরণে উদ্বেগের ছাপ দেখা যাচ্ছে। বেশির ভাগ সময় তারা চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্য বন্দিদের সঙ্গে খুব একটা মিশছেন না।
কারাগারে প্রথম রাতটিও স্বাভাবিকভাবে কাটেনি শ্রদ্ধার। রাতে তাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও তিনি তা খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন এবং ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়।
বিলাসবহুল জীবনযাপনের সঙ্গে অভ্যস্ত শ্রদ্ধার দৈনন্দিন জীবন এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই কঠোর নিয়মকানুনের মধ্যে কারাগারে দিন কাটছে এই মডেলের। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
সান নিউজ/ রাব্বি