তরুণ প্রজন্মের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে এমনই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্ত আগেও হয়েছে, আজও তা থেমে যায়নি।
আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ :
আজ শনিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তরুণ সমাজের ভূমিকাকে সামনে নিয়ে আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, নতুন প্রজন্ম যদি ইতিহাস সম্পর্কে সজাগ থাকে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখে, তাহলে বাংলাদেশ কখনোই দিকভ্রষ্ট হবে না। দেশের অগ্রযাত্রাও থমকে যাবে না।
তরুণদের নিয়ে সরকারের অঙ্গীকার :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তরুণেরা কখনো আপস করেনি, এটা তারা বারবার প্রমাণ করেছে। তাদের ভেতরের সব সম্ভাবনাকে পূর্ণ বিকাশের সুযোগ দেওয়া এবং জাতীয় উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে তাদের সম্পৃক্ত করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান তিনি।
"৭ নভেম্বর শত্রু-মিত্র চেনার দিন"
দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে আস্থাশীল মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত গৌরবের একটি তারিখ। তার মতে, কারা দেশের বন্ধু আর কারা প্রতিপক্ষ, তা নতুন করে চিনে নেওয়ার সুযোগ এনে দেয় এই দিন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে যে ষড়যন্ত্র অতীতে চলেছে, তার অবসান এখনো ঘটেনি।
মহাজোটের আড়ালে একই অপশক্তির খেলা: অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর
বক্তব্যের সবচেয়ে ঝাঁজালো অংশে প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট শক্তিকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, একই অপশক্তি মহাজোটের পর্দার আড়ালে থেকে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ক্ষতি করেছে।
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি টেনে আনেন পিলখানার ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর মর্যাদায় আঘাত হানা হয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, এরপরই দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়।
২০২৪-এর অভ্যুত্থানে পরাজয় :
তবে সেই অপশক্তির দিন যে ফুরিয়েছে, সে কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৭ নভেম্বরের সেই বিরোধী শক্তি পরাজিত হয়েছে।
সকালে জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা নিবেদন, তারপর আর্মি স্টেডিয়ামের রাষ্ট্রীয় আয়োজন এবং বিকেলে দলীয় শোভাযাত্রা, ৭ নভেম্বরকে ঘিরে রাজধানীতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিহাস-সচেতনতা, তারুণ্যের ঐক্য ও জাতীয় সতর্কতার বার্তাই ছিল মুখ্য।
সান নিউজ / রাজীব