মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ইদ্রাকপুর এলাকায় এক শিক্ষক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, পরিবারের সদস্যকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। নিজেদের জমি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মো. আবদুর রশিদ প্রধান (৭৫)।
জিডি ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইদ্রাকপুর এলাকায় আবদুর রশিদ প্রধানের নিজস্ব ও ভোগদখলীয় জমিতে নির্মিত সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুরের শব্দ শুনে তাঁর ছেলে শিক্ষক কামরুল হাসান (৩৯) ঘর থেকে বের হয়ে বাধা দিতে গেলে এক ব্যক্তি ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন। পরে আহত কামরুল হাসানকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আবদুর রশিদ প্রধানের অভিযোগ করে বলেন, জমি পাশাপাশি হওয়ায় প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম নজুসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। এর আগেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনার প্রায় এক মাস আগে পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি সরকারি রাস্তায় বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় সেই বেড়া অপসারণ করা সম্ভব হয়।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম সরকারি নিয়মনীতি না মেনে ভবন নির্মাণ করছেন। যে রাস্তাটি তাঁরা ব্যবহার করছেন, সেটিও আমাদের জমির অংশ থেকে চলাচলের জন্য দেওয়া হয়েছে। এখন আরও সুবিধা নেওয়ার জন্য আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি একজন শিক্ষক। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সর্বশেষ ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের বাড়িঘর দখলের হুমকি দেন। পাশাপাশি বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এতে নিজেদের জমি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম নজু বলেন, ঘটনার রাতে আমি এখানে ছিলাম না। কারা হামলা করেছে বা কারা দেয়াল ভাঙচুর করেছে, তা আমি জানি না। যারা এসব করেছে, তাদের জিজ্ঞাসা করেন। রাস্তার ওপর বেড়া দেওয়ার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, জায়গাটি তাঁর নিজস্ব। এ ছাড়া পৌরসভার বিধিনিষেধ মেনেই ভবন নির্মাণ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির বিরোধের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
সাননউিজ/বান্না