মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গ্রাহকদের বেশি সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ (৪৩) অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ‘অফিসার ক্যাশ’ পদে কর্মরত ছিলেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, ২০১৯ সাল থেকে শরিফুজ্জামান শ্রীনগর বাজারের শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, শ্রীনগর শাখায় কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন গ্রাহককে ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ দেওয়ার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সিল ও ব্যাংকের ভাউচার ব্যবহার করতেন তিনি। পরে এসব অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের পর গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে চলে যান শরিফুজ্জামান। বিষয়টি জানার পর গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের স্বার্থ বিবেচনায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার মিরপুর মডেল থানার মধ্য পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার একটি বাসা থেকে শরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাসাটি তার বোনের।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড এবং একটি ব্যাংক লকারের চাবি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুজ্জামান নিজের পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করলেও আত্মসাৎ করা অর্থের মোট পরিমাণ এবং সেই অর্থের অবস্থান সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে তদন্তও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধের আওতায় পড়ায় সংস্থাটিও বিষয়টি তদন্ত করছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম বলেন, গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে অডিট ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সান নিউজ/ রাব্বি