রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া অন্যরা হলেন-শাহ আলম ও শাহরিয়ার মাহমুদ।
এর আগে বুধবার তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক সুব্রত দেবনাথ।
আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
সে অনুযায়ী আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদন করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, শনিবার দিনগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটায় ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে একজন বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাননিউজ/ বান্না