সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ নিয়ে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। বাজার থেকে ডিম কেনার পর সেটি আসল নাকি নকল—তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে ডিমের খোসার অবস্থা, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ, রং ও চেহারা পর্যবেক্ষণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম কেনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এমন ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে ডিম যথাযথ ঠান্ডা তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল করবেন
১. খোসা ভালোভাবে দেখুন ডিমের খোসা সাধারণত পুরোপুরি মসৃণ হয় না; এতে সামান্য খসখসে ভাব বা প্রাকৃতিক দাগ থাকতে পারে। তবে শুধু খোসার মসৃণতা বা রুক্ষতা দেখে কোনো ডিমকে নকল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। খোসায় ফাটল, ময়লা বা অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন আছে কি না, সেটিই আগে দেখা উচিত।
২. ঝাঁকিয়ে দেখার পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় না ডিম কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকালে তাজা ডিমে সাধারণত ভেতরে তরল নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায় না। পুরোনো ডিমে কিছুটা শব্দ হতে পারে। তবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম ‘প্লাস্টিকের’ কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
৩. ওজন নিয়ে সতর্ক থাকুন একই আকারের ডিমের ওজনে সামান্য পার্থক্য থাকতেই পারে। তাই শুধু ডিম তুলনামূলক হালকা বা ভারী মনে হচ্ছে কি না, তার ভিত্তিতে আসল-নকল নির্ধারণ করা নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।
৪. পানিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা পানিতে ডিম ভাসা বা ডোবার বিষয়টি মূলত ডিমের বয়স ও ভেতরে তৈরি হওয়া বায়ুথলির সঙ্গে সম্পর্কিত। পুরোনো ডিম পানিতে ভাসতে পারে, আর তুলনামূলক তাজা ডিম ডুবে যেতে পারে। তাই পানিতে ডোবা বা ভাসার ওপর ভিত্তি করে ডিমকে ‘আসল’ বা ‘নকল’ বলা ঠিক নয়।
৫. ডিম ভাঙার পর গন্ধ ও চেহারা দেখুন ডিম ভাঙার পর অস্বাভাবিক বা তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। কুসুম ও সাদা অংশের রং, গঠন বা চেহারায় অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেও সতর্ক হওয়া উচিত। তবে সামান্য রং বা গঠনের পার্থক্য সবসময় ডিম নষ্ট হওয়ার প্রমাণ নয়।
ভালোভাবে রান্না করাও গুরুত্বপূর্ণ
ডিম নিরাপদে খাওয়ার জন্য সঠিকভাবে রান্না করা গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসডিএর পরামর্শ অনুযায়ী, ডিম এমনভাবে রান্না করা উচিত যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিম দিয়ে তৈরি খাবারের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় রান্না নিশ্চিত করা জরুরি।
তাই বাজার থেকে ডিম কেনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করুন। ডিমের খোসা অক্ষত কি না, কোথায় ও কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না—এসব বিষয়ই আগে যাচাই করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু খোসা, ওজন, ঝাঁকানোর শব্দ বা পানিতে ডোবা-ভাসার মতো ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো ডিমকে ‘প্লাস্টিকের’ বা ‘নকল’ বলে নিশ্চিত করা যায় না।
সান নিউজ/ রাব্বি