ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ‘আল-আকসা তুফান’ অভিযানকে দখলদারিত্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি। সম্প্রতি এই অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভাষণে আল-হুথি জানান, হঠাৎ চালানো এই সাহসী আক্রমণ ইসরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ভেতরের চরম দুর্বলতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে। দখলকৃত অঞ্চলে বর্তমানে যে তীব্র আতঙ্ক ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত এই অভিযানেরই অনিবার্য পরিণতি।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্ববাসীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আনসারুল্লাহ নেতা বলেন, আল-আকসা তুফান মুসলিম দেশগুলোর সামনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলকে রক্ষায় মরিয়া হয়ে মাঠে নামলেও বেশিরভাগ মুসলিম রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
গাজায় চলমান নৃশংসতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তাদের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ও রাজনৈতিক প্রভাব ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছে। মার্কিন বোমার সাহায্যে গাজার ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, স্নাইপার ও নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়ে নারী-শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি করা হয়েছে।
মুসলিম দেশগুলোর উদাসীনতার সমালোচনা করলেও তিনি ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘস্থায়ী দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি ইয়েমেনের জনগণ শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
আঞ্চলিক রাজনীতি প্রসঙ্গে সৌদি আরবের কঠোর সমালোচনা করে আল-হুথি অভিযোগ করেন, রিয়াদ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়েছে এবং ইসরায়েলি বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা উন্মুক্ত রেখেছে। পরিশেষে, বিদেশি শক্তির আগ্রাসন মোকাবেলায় ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি বড় শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সান নিউজ / রাজীব