যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় দণ্ডিত সাবেক সেনা চিকিৎসক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিশেষ সুপারিশের প্রেক্ষিতে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যম হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াড পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং স্থান পরবর্তীতে চূড়ান্ত করবেন সেনাবাহিনীর সচিব। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে অস্ত্রহাতে অতর্কিত হামলা চালান মেজর হাসান।
সেই মর্মান্তিক ঘটনায় ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্যসহ মোট ১৩ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন অন্তত ৩২ জন। হামলার সময় ওই সেনা চিকিৎসক উগ্র স্লোগান দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে জেরার মুখে জানান যে, মুসলিম বিশ্বে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে সামরিক আদালতের বিচারে পরিকল্পিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অসংখ্য অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং দীর্ঘকাল ধরে হুইলচেয়ারে জীবন কাটাচ্ছেন।
মার্কিন সামরিক বিচার বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, সামরিক আদালতে দেওয়া যেকোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের বিকল্প হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াড, বৈদ্যুতিক চেয়ার বা গ্যাস প্রয়োগের মতো পদ্ধতিগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ ১৯৬১ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সামরিক সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা দেশটির বিচারিক ও সামরিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
সান নিউজ / রাজীব