আনোয়ার ইব্রাহিম
আন্তর্জাতিক

পরিবর্তন না আনলে মালয়েশিয়া ‘টিকবে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা না হলে মালয়েশিয়া টিকবে না।

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের কর্মচারী ভাববেন না

এমনকি মালয়েশিয়া কিছুটা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার ইব্রাহিম একথা বলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি।

বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, মালয়েশিয়াকে পরিবর্তন করতে হবে নতুবা এই দেশটি টিকবে না।

তিনি বলেন, শাসনের কথা বললে, আমি মনে করি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া এবং তা কার্যকর করা আমার দায়িত্ব। কারণ দেশ কিছুটা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং পরিবর্তনের সংকল্প না থাকলে, আমি বিশ্বাস করি না মালয়েশিয়া টিকে থাকবে।

এসময় তিনি মালয়েশিয়াকে জাতি-ভিত্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রয়োজন-ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে ইতিবাচক কর্ম নীতির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন: সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৪ হাজার হজযাত্রী

বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২২ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেসময় জাতীয় নির্বাচনের পর দেশটিতে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল এবং মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আব্দুল্লাহ জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের জন্য কয়েকদিনের আলোচনা শেষে তৎকালীন বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় এই নেতা ১৯৯০ এর দশকেই দ্রুত রাজনৈতিক সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডে পরিণত হয়েছিলেন। অনেকেই আশা করেছিলেন যে তিনি হয়তো ভবিষ্যতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

কিন্তু পরিস্থিতি সেরকম হয়নি। অর্থনৈতিক সংকটকে ঘিরে আনোয়ার ইব্রাহিম ও মাহাথিরের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে একপর্যায়ে ইব্রাহিমকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। অবশ্য তার সেই সাজা ২০০৪ সালে বাতিল করে দেওয়া হলে আনোয়ার পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।

আর এরই ফলে প্রায় ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় সংস্কারের জন্য প্রচার-প্রচারণা গতি পায়।

আরও পড়ুন: সংলাপ নিয়ে ভাবছি না

আল জাজিরা বলছে, মালয়েশিয়া একটি বহু-জাতিভিত্তিক দেশ, কিন্তু ইতিবাচক পদক্ষেপ নীতির মাধ্যমে মুসলিম মালয় এবং আদিবাসীদের নিয়ে গঠিত সংখ্যাগরিষ্ঠরা ১৯৭০ সাল থেকে সুবিধা পেয়ে থাকে। এই জাতীয় নীতিগুলো চাকরি থেকে শিক্ষা এবং বাসস্থানের ক্ষেত্রে এই জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেয়।

মূলত ১৯৬৯ সালের মে মাসে মালয় এবং জাতিগত চীনাদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গার পর সামাজিক প্রকৌশল কর্মসূচির অংশ হিসাবে এটি চালু করা হয়েছিল। এসব নীতি অস্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তা তখন থেকেই রয়ে গেছে এবং এটিই দেশের সংখ্যালঘু চীনা ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

এমনকি এই নীতি অনেককে অন্যত্র ভালো সুযোগের সন্ধানে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্যও করেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় তুলনামূলকভাবে উচ্চ-আয়ের বৈষম্যের মধ্যে এই নীতি যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে পৌঁছেছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে রেলক্রসিংয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১

আল জাজিরা বলছে, আনোয়ারের জন্য প্রয়োজন বা চাহিদা-ভিত্তিক নীতি ‘মালয়দের জাতি-ভিত্তিক নীতির চেয়ে বেশি সাহায্য করবে, কারণ জাতি-ভিত্তিক নীতিগুলো কয়েকটি অভিজাত এবং তাদের বন্ধুরা নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করে বলে প্রমাণিত হয়েছে’।

কিন্তু আনোয়ার এই ধরনের সংস্কারের মধ্য দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম মূলত বহুজাতিক দল থেকে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে কার্যত নতুন একটি ভিত্তি তৈরি করছেন। কারণ মালয়েশিয়া ঐতিহ্যগতভাবে মালয় এবং অন্যান্য জাতি-ভিত্তিক দলের শাসিত একটি দেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে মালয়রা জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এবং আইন অনুসারে তারা মুসলিম।

এছাড়া তার সরকারের ভিত্তিও বেশ ভঙ্গুর। কারণ আনোয়ারের পাকাতান হারাপান (অ্যালায়েন্স অব হোপ) জোট নিজে থেকে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পায়নি। ক্ষমতায় তার উত্থান কেবলমাত্র মালয়েশিয়ার সাবেক ক্ষমতাসীন জোট বারিসান ন্যাশনালসহ ছোট দলগুলোর সাথে জোটের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মেঘনায় পণ্যবাহী ট্রলার ডুবি

আর ওই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে কেবল মালয়দের দল ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)। বারিসান ন্যাশনাল মালয়েশিয়ার জাতি-ভিত্তিক ইতিবাচক কর্মনীতির স্থপতি এবং নিজেদের কয়েক দশক-দীর্ঘ শাসনামলে এই নীতিগুলোকে তারা স্থায়ী রূপ দিয়েছিল।

মালয়েশিয়ার বর্তমান এই প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘আপনি বিরোধীদের কাছ থেকে আর কী আশা করেন? দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমার দৃঢ় অবস্থানের কারণে কেউ কেউ খুবই বিচলিত। সবসময় এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে, মানুষ পক্ষ পরিবর্তন করছে। এটা আমাকে বিচলিত করে না। তারা যদি আমাকে বিচলিত মনে করে তাহলে আমি মনে করি তারা ভুল বুঝেছে।’

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বজ্রপাতে নিহত ২

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার দাবি করেছেন, দেশের রাজনৈতিক অভিজাতদের নিয়ে গঠিত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু শক্তি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ‘কোটি কোটি টাকা নিয়ে দল বেঁধেছে’।

তিনি বলেন, ‘তবে এখন আমি ক্ষমতায় আছি, আমি অলস বসে নেই। যদি তারা লোক কিনে, লোকদের ঘুষ দিয়ে এবং তাদের জমি রক্ষার জন্য সমর্থন বাড়াতে চায়, তাহলে আমি তাদের সাথে লড়াই করব।’

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা