দিল্লির রামলীলা ময়দানে বাম, কংগ্রেস, ককরোচসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
‘মনুবাদী শাসন’ কায়েমের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে

ফ্যাসিস্ট মোদির হাত থেকে ভারতকে রক্ষা করতে হবে : এম এ বেবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
📰 এক নজরে: রামলীলা ময়দানে বামেদের মহা-সমাবেশ ও ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র ডাক
  • মূল বার্তা: দেশের সংবিধানকে বদলে ‘মনুবাদী সংবিধান’ কায়েমের চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম) ও বামপন্থী দলগুলো।
  • সরকারের বাধা ও বিজেপির আক্রমণ: দিওয়ালির অজুহাতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রচার এবং পুলিশি কড়াকড়ির পাশাপাশি বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা অভিযোগ করেন যে বিরোধীরা দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
  • ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ: ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
  • বক্তাদের হুংকার: সমাবেশে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি মোদী সরকারকে ‘অসত্যের মহারাজা’ আখ্যা দেন এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য নেতারা ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াই দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।


ভারতের গণতান্ত্রিক মূলভিত্তি এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে ধ্বংস করে দেশে একচ্ছত্র ‘মনুবাদী শাসন’ কায়েমের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দেশটির বামশিবির।

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল ও জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য তথা বিশিষ্ট নেতা এম এ বেবি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ফ্যাসিবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে বামপন্থীরা রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

রামলীলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দিওয়ালি বয়কটের সরকারি বাধা উপেক্ষা করে লাখো মানুষের জনস্রোত :

আজ রোববার ১ নভেম্বর দিল্লির বুকে বিরোধী জোটের এই মহা-সমাবেশ প্রতিহত করতে শাসক দলের পক্ষ থেকে নানামুখী কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধীদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে একযোগে ময়দানে নামে বিজেপি।

বিশেষ করে দিওয়ালির উৎসবের মরশুমে এই সমাবেশের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এমন বার্তা প্রচার করা হয়। এমনকি দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সুকৌশলে রামলীলা ময়দান সংলগ্ন এলাকার অসংখ্য দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে আসরে নামানো হয় শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে।

তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন যে, বিরোধীরা দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং এর নেপথ্যে কোনো না কোনো বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে।

তবে শাসক শিবিরের এসব রাজনৈতিক চাপ, পুলিশের কড়াকড়ি এবং প্রচারের সমস্ত কৌশলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রোববার ভোরে রামলীলা ময়দান অভিমুখে নেমে আসে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল। সাধারণ মানুষের শাণিত স্লোগান ও প্রতিবাদের ঝড়ে নিমিষেই ফিকে হয়ে যায় ক্ষমতাসীনদের সমস্ত বাধা। প্রসঙ্গত, রামলীলা ময়দানের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঐতিহ্য।

অতীতে মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব বিআর আম্বেদকর এবং বল্লভভাই প্যাটেলের মতো মহান জাতীয় নেতারা এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত মাটিতে দাঁড়িয়ে বাম নেতারা আজকের এই আন্দোলনকে নতুন এক স্বাধীনতার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটাসহ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির তীব্র ভর্ৎসনা :

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে (আরএসএস) একহাত নেন। তার অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়ালে রেখে ফ্যাসিবাদী পন্থায় দেশ শাসন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা এ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া, সাধারণ মানুষকে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে পদে পদে হয়রানি করা এবং নথির মারপ্যাচে দেশের নাগরিকদের ‘বেনাগরিক’ বা অবৈধ তকমা দেওয়ার চক্রান্ত চলছে—যার বিরুদ্ধে আজ ফুঁসে উঠেছে জনতা।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এম এ বেবি বলেন, গান্ধীজি যেখানে সর্বদা সত্যের ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক লড়াই পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হলেন এককথায় ‘অসত্যের মহারাজা’।

নির্বাচনী প্রচারের সময় ভোটারদের মাঝে মেরুকরণের বিষ ছড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের জুজু দেখানো থেকে শুরু করে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার ভুয়া প্রতিশ্রুতি—সবকিছুই জনমোহিনী প্রতারণা ছাড়া আর কিছু ছিল না। মোদীর জমানায় কৃষকদের আয় তো বাড়েইনি, বরং ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে দেশজুড়ে কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ সময় সমাবেশে স্পষ্ট দাবি তোলা হয় যে, ভোট চুরির নেপথ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সিপিআই(এম-এল), কৃষক আন্দোলন ও ছাত্রনেত্রীদের হুংকার :

সমাবেশে অন্যান্য বামপন্থী দলের শীর্ষ নেতারাও কেন্দ্রের ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, রামলীলার ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে ভোটাধিকার রক্ষার যে পবিত্র বার্তা আজ উচ্চারিত হলো, তাকে কোনোভাবেই কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং এই লড়াইয়ের স্পৃহা দেশের প্রতিটি কোণায়, পাড়ায় এবং গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য বিজু কৃষ্ণান দেশের কৃষকদের শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে প্রায় ৩২০টি জেলা তীব্র খরায় ধুঁকছে, অথচ সরকারের টনক নড়ছে না। বেকারত্বে জর্জরিত যুবসমাজ, শিক্ষার্থী এবং নারীরা আজ চরম দুর্দিনের মুখোমুখি।

তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক ত্রুটির আজব অজুহাত দেখিয়ে আসলে সুকৌশলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। সমাবেশে ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরাও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বর্তমান সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান। রোববারের মহাসমাবেশ দিল্লির মসনদে বসা শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে ভারতীয় রাজনীতির আকাশে নতুন এক তীব্র আন্দোলনের তীব্র বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।


সান নিউজ / রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন শিবা শানু

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত খল অভিনেতা চৌধুরী মাজহার আলী ওরফে শিবা শানু দীর্ঘদিন...

গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি, তদন্তে বেরিয়ে এলো ভিন্ন ঘটনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উদীয়মান সংগীতশিল্পী আবু জাহিদ অন্তুর বিরুদ্...

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত...

যশোর বোর্ডে গত ৪ বছরের মধ্যে এইচএসসিতে পাসের হার সর্বনিম্ন

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বো...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা