দীর্ঘ আট বছর পর আবারও ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের বিখ্যাত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের জমকালো আয়োজনে হীরা ও মূল্যবান রত্নখচিত এই অন্তর্বাস পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ব্রাটির মূল্য ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে দেখা গেল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ নকশা ও মূল্যবান অলংকারে সাজানো হয়েছে অন্তর্বাসটি।
এতে ব্যবহার করা হয়েছে মোট ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। আর ব্রাটির ঠিক মাঝখানে বসানো হয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের বিরল হলুদ হীরা। এটি তৈরিতে ১৫ জন কারিগরের লেগেছে এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময়। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ড। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। আগের রেকর্ডের তুলনায় এর দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।
র্যাম্পে কাইলি জেনারের সাজেও ছিল বিশেষ আয়োজন। তার পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল ও সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো শোতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে হীরাখচিত ফ্যান্টাসি ব্রাটিই।
এ প্রসঙ্গে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান জানান, এবারের ফ্যাশন শোর অন্যতম লক্ষ্য ছিল দর্শক ও ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। সেই প্রত্যাশা থেকেই এবার বিশেষ আয়োজনে এটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কাইলি জেনারকে ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে সেলম্যান বলেন, ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
ব্রাটির অলংকার তৈরিতে কাজ করেছে বিখ্যাত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, এতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।
তবে এত মূল্যবান অলংকার তৈরি করাই ছিল না একমাত্র চ্যালেঞ্জ। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে যথাযথভাবে মানিয়ে যায় এবং র্যাম্পে হাঁটার সময় কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি করা হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে; এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় তিন দশকের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। এরপর ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।
২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা শুধু বিলাসিতার প্রতীক নয়, বরং এটি মূল্যবান রত্নের নকশা ও কারিগরি দক্ষতারও এক অনন্য নিদর্শন। দীর্ঘ বিরতির পর এর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের এই আইকনিক আয়োজন।
সান নিউজ/ রাব্বি