মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে অতিরিক্ত দণ্ডভোগ করতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় তাঁকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মা আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। এ কারণে তিনি সেখানে অবস্থান করতেন। এই সুযোগে লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ চারিগাঁও আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নিজ বাড়িতে মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন তার বাবা—এমন অভিযোগে মামলা হয়।
২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে শিশুটিকে ধর্ষণের সময় এলাকাবাসী তাঁদের হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। ওই দিনই প্রতিবেশী ইউনুস ফরাজী বাদী হয়ে লৌহজং থানায় মামলা করেন।
মামলার শুনানিতে আসামির বক্তব্য ও সাতজন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মুন্সীগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর আইনি লড়াইয়ের পর রায় এসেছে। এ রায়কে শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার ঘটনায় বিচারপ্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
সাননিউজ/বান্না