নওগাঁ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় আকস্মিক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার ঠিক দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ কিংবা জরুরি চিকিৎসা হেফাজতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ওই নেতার নাম জাকির হোসেন (৫৮)। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার জোরগাছা গ্রামে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তিনি প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করছিলেন।
সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।
হাসপাতাল ও কারা সূত্রে প্রকাশ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে কারাগারেই হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন জাকির হোসেন। পরিস্থিতি খারাপ বুঝতে পেরে কারা কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে।
কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ঠিক দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন এই মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যখন ওই বন্দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তখন তার অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এদিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর কারা প্রশাসনের বক্তব্যে কিছুটা ধোঁয়াশা লক্ষ্য করা গেছে। নওগাঁ জেলা কারাগারের সুপার রত্না রায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি বাইরে থেকে শুনেছেন জাকির হোসেন হাসপাতালে মারা গেছেন।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বা দাপ্তরিক তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, জাকির হোসেন মূলত একটি বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন এবং সকালে অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় তাকে নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার এভাবে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলখানার ভেতরের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারাগারে তার সুচিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না কিংবা হৃদরোগ বা অন্য কোনো জটিল শারীরিক সমস্যায় তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
সান নিউজ / রাজীব