আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাতচল্লিশে দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ব্রহ্মপুত্রের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হতে যাচ্ছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হবে নামরূপের ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের’ (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল। দেশভাগের পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে এটিই হবে প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন।
ব্রিটিশ আমলে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড় অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নদীপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গেও বাণিজ্য করত। তবে স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই নদীপথভিত্তিক বাণিজ্য কমে যায়। সেই পুরনো বাণিজ্যিক ঐতিহ্য আবারও ফিরছে।
বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনাল প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, আধুনিক জেটি ও গুদামঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সামগ্রিক নজরদারি ও সহায়তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি লাইটহাউস ও ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’।
এপিএলের মিথানল পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে। অর্থাৎ, একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব হবে।
বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে জাহাজগুলোর আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে।
এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সম্পূর্ণ সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলে।
বিকুল ডেকার মতে, বগীবিল টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শুধু মিথানল নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও অনেক শিল্পপণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা খুলে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) উৎপাদিত সামগ্রী, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা।
এছাড়া আসামের বিখ্যাত কাজী লেবু বা অসমীয়া লেবু, ভূত জলোকিয়া ও গোলমরিচের মতো জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত কৃষিপণ্যও সরাসরি বিদেশের বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
সাননিউজ/ বান্না