কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে পড়ে স্টুডিওটি হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল না।
নাজমুল হক বলেন, ‘দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। হামলাকারীরা সম্ভবত জানতও না যে এটি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।
হামলার ঘটনায় তিনজনকে দেশি অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এর আগে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ফিরে তিনি স্টুডিওতে যান এবং ক্ষয়ক্ষতি দেখেন। পরে ফেসবুক লাইভে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
লাইভে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, স্টুডিওটি তার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল নয়; এটি অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ওই কর্মকর্তা।
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগও করেন সালমান মুক্তাদির। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফেসবুক লাইভে কর্মীদের উদ্দেশে সালমান মুক্তাদির বলেন, তারা যেন আতঙ্কিত না হন এবং আবার কাজে ফিরে আসেন। তিনি জানান, এই ঘটনার পরও সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যাবেন।
সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’
স্টুডিও নির্মাণ ও পরিচালনায় স্ত্রী, সহকর্মী এবং সংশ্লিষ্টদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। হামলার পরও প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
এ ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সান নিউজ/ রাব্বি