সরাসরি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের পথে না হেঁটে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে ফেলার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ‘গ্রে জোন’ বা ধূসর অঞ্চলের এই কূটনীতি এমন এক যুদ্ধবিহীন লড়াই, যেখানে কূটনীতি, সাইবার জগৎ, কোস্টগার্ডের উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক চাপকে একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের সার্বভৌমত্বকে তিলে তিলে দুর্বল করে দেওয়া হয়।
ধূসর অঞ্চলের মূল দর্শন : বিশ্লেষকদের মতে, গ্রে জোন কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো এমন এক অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করা, যাকে সরাসরি কোনো আগ্রাসন বা যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে আক্রান্ত রাষ্ট্রটি বুঝতে পারে না যে কখন তারা বড় কোনো সংকটের মুখে পড়ছে।
বেইজিং এই কৌশলের মাধ্যমে তাইওয়ানের চারপাশে নিয়মিত কোস্টগার্ডের উপস্থিতি, সাইবার তৎপরতা এবং কূটনৈতিক বয়কটকে একটি নিয়মে পরিণত করেছে। একেকটি ঘটনাকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি ফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
নজরদারি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চবক : তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমায় চীনা সরকারি জাহাজ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল কেবল সাধারণ নজরদারি নয়; এর নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য।
বারবার সমুদ্রসীমায় উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বেইজিং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি প্রতিষ্ঠা করতে চায় যে, ওই অঞ্চল তাদের কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে তাইপের নিজস্ব জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক কোণঠাসা অবস্থা : শুধু সামরিক বা সামুদ্রিক চাপই নয়, তাইওয়ানের বন্ধুরাষ্ট্র বা মিত্র দেশগুলোর ওপর কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক মাশুল গুনতে বাধ্য করার মতো ঘটনাগুলো এই কৌশলেরই অংশ। এর ফলে তাইপের পাশে দাঁড়াতে চাইলে তৃতীয় কোনো দেশও দ্বিধায় ভুগে থাকে।
বেইজিং মূলত এই ভীতির পরিবেশ তৈরি করেই তাইওয়ানকে বিশ্বমঞ্চে ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গ করে ফেলতে চায়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকদের মতে, এই নীরব ও বহুমুখী আগ্রাসন প্রতিহত করতে কেবল সামরিক প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য সমমনা দেশগুলোর পারস্পরিক ঐক্য এবং দ্রুত ও যৌথ রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
সান নিউজ / রাজীব