সারাদেশ

মৌলভীবাজারে ইটভাটায় যাচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলার কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে অবাধে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ফসল উৎপাদনে জমির উপরের উর্বর মাটি চাষাবাদের খুবই উপকারী। হাজার হাজার হেক্টর দু’ফসলি কৃষি জমি থেকে উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা। ফলে দিনদিনই এ জেলায় ব্যাহত হচ্ছে প্রধান ফসল ধানসহ রবিশস্যের উৎপাদন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা, বরমচাল, ব্রাম্মণবাজার, কাদিপুর, কুলাউড়া সদর, রাউৎগাঁও, টিলাগাও, হাজিপুর, জয়চন্ডীসহ প্রতিটি ইউনিয়নের ফসলী জমির মাটি নামমাত্র টাকায় কিনে ইটভাটাগুলো সংগ্রহ করছে। একইভাবে কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর, আদমপুর, মাধবপুর, মুন্সীবাজার, রাজদীঘির পাড়সহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক হারে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ট্রাকযোগে ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। কৃষিজমির মাঝখানে দেড় থেকে দুই ফুট পরিমাণ উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছেন ইটভাটা মালিকরা।

মুন্সীবাজারের রামপুর এলাকায় রাস্তার ধারে চর্তুদিকে কৃষিজমির মাঝ থেকেই এসকেবেটর লাগিয়ে উর্বর মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। অর্থাভাবে জমির মালিকরা ইটভাটা মালিকদের কাছে জমির উর্বর মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। ভাটার মালিকরা ইট তৈরির কাজে তুলনামূলক কমদামে মাটি কিনে ভাটায় স্তুপ করে রাখছেন ইট তৈরির জন্য। ফলে আবাদি এসব জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। এতে কৃষির উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী বিরুপ প্রভাব পড়বে আর পরিবেশরও ক্ষতি বয়ে আনছে।

কৃষক জিয়াউল হক, কয়সর মিয়া, এনামুল হক বলেন, গরিব কৃষকদের বেলায় ধানের চারা রোপনের পর দোকান থেকে সার-কীটনাশক বাকিতে আনতে হয়। এরপর কৃষি শ্রমিকের খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ লাগে। বাধ্য হয়েই কমদামে ধান বিক্রি ছাড়া কোন উপায় থাকে না।

কৃষকরা আরও বলেন, লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হয়। আবার মহাজনরা যখন ধান কিনে নেন তখন ধানের দাম বেড়ে যায়। লাভ হয় মজুতদার মহাজন ব্যবসায়িদের। তাই অনেক সময় ইচ্ছের বিরুদ্ধেও জমির উর্বর মাটি বিক্রি করতে হয়। তবে জমির উপরের উর্বর মাটি কৃষির জন্য খুবই উপকারী বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

উপজেলার মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল দেব বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি খুবই জটিল বিষয়। উর্বর মাটির ছয় ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে ফেলা হলে পরের ৪-৫ বছর এ জমিতে ভালো ফলন হয় না। প্রচুর গোবর ও জৈবসার দিয়ে মাটিকে ফসল উৎপাদনের উপযোগী করতে কোন কোন ক্ষেত্রে ১০-১২ বছর লেগে যায়। যা শুধু কৃষকেরই ক্ষতি হচ্ছে না এতে গোটা দেশের কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে যা অপূরণীয়। এই জমিকে উপযোগী করতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম ও জৈবসার জমিতে দিতে হয়। পুনরায় মাটির উর্বরতা সৃষ্টি হতে কমপক্ষে দশ থেকে পনের বছর সময় লেগে যায়। এটি কৃষিজমির জন্য খুবই ক্ষতিকর।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। কোথাও কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সান নিউজ/এসকেডি/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা