সাভারের আশুলিয়ায় নারীকে ব্যবহার করে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ, মারধর ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নারী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে।
অপহরনকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে থাকা আরও ৪ হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ২৪ হাজার ৩০০ টাকা মুক্তিপনের জন্য আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, খন্দকার মেহেদী হাসান (২৪), সাবিনা ইসলাম (২০) ও শামীম মিয়া (১৬)। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুটে নেওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জনিয়েছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় সাভারে বাসা থেকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন পারভেজ বিশ্বাস (৩৪)। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে ফেরার পথে এক নারী তাঁর কাছে লিফট চান। ওই নারীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আল নূর মসজিদের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি পারভেজকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করেন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি বাঁশবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে আবারও মারধর করা হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এসময় অপহরনকারীরা পারভেজের কাছে টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা উপায় না পেয়ে পারভেজের মোবাইল নম্বরে থাকা নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা পাঠান। ওই অ্যাকাউন্টে আগে থেকে থাকা ৪ হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ২৪ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেয় অপহরনকারীরা। এছাড়া পারভেজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্লুটুথ হেডফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পারভেজ বিশ্বাস বিষয়টি জানিয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা (নম্বর ৯৯) দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আশুলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাননিউজ/বান্না