সারাদেশ

অদম্য আসাদুল

ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা শিবনগর ইউপির দাদপুর গ্রামের পা-বিহীন আসাদুলের সংসার চলছে রিক্সায় বাদাম বিক্রি করে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের কাঁচা-মাটির রাজা ধরে এগোলেই চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী মানুষ। রিক্সার ওপর সারি করে সাজানো বাদাম, বুট আর চিপস। রিক্সার আসনে বসে থাকা মানুষটির বয়স মাত্র ৩৮ বছর। নাম আসাদুল। তাঁর দুই পা নেই। কিন্তু এই অক্ষমতাই তাঁর জীবনের শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং এই রিক্সাই তাঁর জীবনযুদ্ধের প্রধান অস্ত্র। আসাদুল দাদপুর গ্রামের মৃত্যু আব্দুস ছামাদের পুত্র।

আসাদুলের সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা। পাঁচজনের এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি নিজেই। বিশেষ ভাবে তৈরি রিক্সার প্যাডেল ঠেলেন হাত দিয়ে। আর এই হাতে ঠেলা রিক্সায় প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রাম থেকে বাজার, বাজার থেকে মহল্লা-ঘুরে ঘুরে বাদাম, বুট, চিপস বিক্রি করেন। আয় খুব বেশি নয়, তবু সেই অল্প আয়ের মধ্যেই তিনি চালান সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা আর মায়ের চিকিৎসা ছাড়াও নিজেকে চলতে হয়।

রিক্সায় বসেই তিনি সব কাজ করেন। পণ্য সাজানো, ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া, দরদাম-সবকিছুই করেন হাত আর শরীরের কৌশলে। পথচলার কষ্ট, মানুষের দৃষ্টি, কখনো অবহেলা-সবই সয়ে নিতে হয় তাঁকে। তবু মুখে কখনো অভিযোগ নেই। বরং নিজের শ্রমে বেঁচে থাকার এক দৃঢ় প্রত্যয়ই ফুটে ওঠে তাঁর চোখেমুখে।

নিজের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে আসাদুল কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যান। তারপর ধীর কণ্ঠে জানান, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনে বাদাম বিক্রি করতেন তিনি। একদিন অসাবধানতায় চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় পুরো জীবন। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শরীরের অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ-দু'টি পা চিরতরে হারান তিনি।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। শারীরিক যন্ত্রণা তো ছিলই, তার চেয়েও বড় ছিল মানসিক কষ্ট। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সংসারের দায়-সব মিলিয়ে একসময় মনে হয়েছিল

জীবন বুঝি এখানেই থেমে গেল। কিন্তু পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ভেঙে পড়লে চলবে না।

সেই সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। ভিক্ষার পথ বেছে না নিয়ে তিনি বেছে নেন পরিশ্রমের পথ। ধীরে ধীরে রিজয় করে পণ্য বিক্রির কাজ শুরু করেন। শুরুটা ছিল কঠিন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যাস আর আত্মবিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

সান নিউজ/আরএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

মেসির ফ্রি-কিকে ইতিহাস, তবুও হতাশ মায়ামি

ক্যাম্পেওনস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলকে হারিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল ইন্ট...

কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা, যুবক আটক

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হ...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা