ছবি-সংগৃহিত
শিশু স্বর্গ
বীরবলের গল্প

অভ্যাসই মানুষের দাস

সাননিউজ ডেস্ক: বাদশা একদিন বরে শিকার করতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বনে তার নজরে পড়ল একটি জংলী স্ত্রীলোক ঝোপের আড়ালে একটি সন্তান প্রসব করে তখনই শিশুটিকে পরিধেয় বস্ত্রের ঝোলার মধ্যে বেঁধে পিঠে ফেলে নিয়ে চলে গেল সেখান থেকে।

বাদশা এতে আশ্চর্য হয়ে মনে মনে ভাবলেন, আমার অন্তঃপুরের মহিলারা প্রসবের সময় ব্যথার যে ভান করেন, সে আসলে মিথ্যে? প্রসবব্যথা যদি সত্যিই এত কষ্টের হত, তাহলে এই শ্রমজীবী বন্য মেয়েটিও তো সে যন্ত্রণা অনুভব করত? এই জংলী মেয়েটি এমনি অনয়াসে এমন সস্তান প্রসব করতে পারত না।

আরও পড়ুন: বই লিখেছে ‘বাপ কা বেটা’র ঋতুরাজ

এরপর থেকে বাদশা অন্তঃপুরের মহিলাদের, এমনকী বেগমদেরও গর্ভাবস্থায় কোনও তত্ত্বাবধান করতেন না। এতে বেগম আর বাদশাজাদীদের নতুন আর এক যন্ত্রণায় পড়তে হল। যত কষ্টই হোক বাদশা সেদিকে লক্ষ রাখতেন না।

শেষ পর্যন্ত তারা বীরবলের কাছে এক বাদীকে পাঠালেন এ বিষয়ে তার সাহায্য প্রার্থনা করে। বীরবল সব শুনলেন এবং তার তখন মনে পড়ল সেই শিকার করতে যাওয়ার কথা।

বীরবল বাঁদীকে বলে দিলেন, ভাবনার কিছু নেই, এ বিষয়ে আমার যা করার তা করব। বেগমদের নির্ভাবনায় থাকতে বলবে।

আরও পড়ুন: সন্তানের আদর্শ হয়ে উঠুন

বাদশার প্রাসাদের বাগানে অনেক রকম শৌখিন ফুল ফুটত। বাদশার আদেশে এক দক্ষ মালী নিয়মিত জল দিয়ে পরিচর্যা করত সেই সব ফুলগাছের। ফুলগাছও বেশ সুন্দর হয়েছিল।

বীরবল একদিন মালকে টবে জল দিতে নিষেধ করলেন। দুদিন জল না পেয়েই ফুলগাছগুলো সব শুকিয়ে যেতে লাগল।

বাদশা এজন্য মালীকে ডেকে তিরস্কার করলেই সে বলল, আমার কোনও কসুর নেই হুজুর, বীরবলসাহেব আমাকে বাগানে জল দিতে নিষেধ করেছেন। সেজন্য আমি দুদিন ধরে জল দিইনি হুজুর।

বাদশা বীরবলকে ডেকে বললেন, তুমি নাকি মালীকে টবের ফুলগাছে জল দিতে নিষেধ করেছ? তার জবাব দাও! দেখতে পাচ্ছ, জল না পেয়ে গাছগুলো সব কেমন হয়ে গেছে।

বীরবল বললেন,হ্যাঁ হুজুর। আমিই মালকে জল দিতে নিষেধ করেছিলাম।

বাদশা: কেন?

বীরবল বললেন, জঙ্গলের গাছগুলোতে কে জল দেয় হুজুর? কিন্তু জঙ্গলের গাছ কি বাঁচে না, না বাড়ে না না দেখতে খারাপ লাগে?

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

বাদশা বললেন, জঙ্গলের গাছ আর বাদশার বাড়ির বাগানের ফুলগাছ এক হল? তাই যদি হবে তাহলে জলের অভাবে টবের গাছগুলি এমন শুকিয়ে যেত না! তোমার এ অন্যায় কোনওমতে বরদাস্ত করা যায় না।

বীরবল বললেন, তাই যদি হয় হুজুর, তাহলে জংলী স্ত্রীলোক আর বাদশার অন্তঃপুরের স্ত্রীলোকও কি এক হয়? শ্রমশীলা জংলী নারীর প্রসববেদনা হয় না, বা সামান্য হয় বলে কি আজন্ম সুখভোগিনী বেগমদের প্রসববেদনা হবে না? এর কি কোনও উত্তর মালীকে জল দিতে নিষেধ করেছিলাম। আপনি দিতে পারেন হুজুর।

বাদশা এবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে গর্ভবতী অন্তঃপুরস্থ মহিলাদের বিশেষ তত্ত্বাবধানের রীতি পুনঃপ্রবর্তন করলেন। তিনি সেদিন থেকে আবার আগের মতোই তাদের সব দেখভাল করতে লাগলেন। বীরবলও তখন মা জননীদের আশীর্বাদ কুড়োলেন!

সাননিউজ/জেএস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

রাঙ্গাবালীর কৃত্রিম খালে লবণাক্ত পানি প্রবেশে কৃষকদের হাহাকার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জুগির হাওলা গ্রামে এ...

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তৎপর রয়েছে পাকিস্তান : শেহবাজ শরীফ

শান্তি ফেরাতে তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্...

পঞ্চগড়ে ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালি...

বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদার (৮৫...

অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে আটক ৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে য...

কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা,আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ৮ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের

ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক ন...

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা