ডায়াবেটিস পরীক্ষা
লাইফস্টাইল

সচেতনতায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

সান নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালে পৃথিবীতে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। একসময় বলা হতো, ডায়াবেটিস বড়লোকের রোগ। কিন্তু এই যুগে দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত মানুষের চার ভাগের তিন ভাগই নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের নাগরিক।

অসংক্রামক রোগের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস অন্যতম; তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডায়াবেটিস প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ। কোভিড মহামারিকালে এই সত্য আরও প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে।

কোভিড আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদেরও একটি বড় অংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া ডায়াবেটিসের দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা যেমন হৃদরোগ, কিডনি রোগ, চোখের রোগ, স্নায়ু রোগ, গর্ভকালীন জটিলতা ইত্যাদির ফলে কয়েক গুণ বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে সবচেয়ে বেশি যা দরকার, তা হলো রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার বা পরিমাপের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা হলো রক্তের ‘এইচবিএওয়ানসি’ পরীক্ষা।

যা বিগত ৩-৪ মাসের নিয়ন্ত্রণের গড় হিসাবকে নির্দেশ করে। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য গড়পড়তা এইচবিএওয়ানসির লক্ষ্যমাত্রা হলো ৭ শতাংশ। এ ছাড়া নিয়মিত বাড়িতে রক্তের শর্করা মাপার বিকল্প নেই।
কিন্তু বেশির ভাগ রোগীই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কমবেশি ব্যর্থ।

বাংলাদেশেও দ্রুত হারে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। বাংলাদেশের বেলায় তা আরও হতাশাব্যঞ্জক। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যমাত্রার বাইরে।
অথচ সবাই সমান সুযোগ পেলে বা সচেতন হলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশের একটি বড়সংখ্যক ডায়াবেটিস রোগী আর্থসামাজিক কারণে ও সচেতনতার অভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে যাচ্ছেন। সে জন্যই সবার জন্য বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যেটিকে প্রতিরোধ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে প্রতি দুজনে একজনের ক্ষেত্রে। কিন্তু একবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে বাকি জীবন ডায়াবেটিস নিয়েই কাটাতে হবে এবং আতঙ্কের সঙ্গে প্রহর গুনতে হবে যে কখন ডায়াবেটিস–সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দেখা দেয়।

তাই সর্বস্তরের মানুষকে জেনে বুঝে সচেতনভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কর্মযজ্ঞে নিজের সামর্থ্য অনুসারে অংশগ্রহণ করতে হবে। আর এজন্য সঠিক জীবন যাপন ও খাবার এবং ঘুমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে, নতুন নতুন ওষুধ যেমন আবিষ্কৃত হয়েছে, তেমনই প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে আছে বর্তমানে ডায়াবেটিসের রোগী ও ভবিষ্যতে যাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসা যেমন জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সর্বাত্মক সুগভীর কর্মকাণ্ড।

রাষ্ট্রকে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে এ কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা সম্ভব হয়। সকল মানুষকে তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি কিভাবে গ্রহণ করলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

পাঠ্যসূচি থেকে শুরু করে নগর-পরিকল্পনা, বিদ্যালয় স্থাপনসহ সব ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস প্রতিরোধসহ মেটাবলিক রোগগুলো নিয়ন্ত্রণের কাঠামোগত উন্নতি করতে হবে।

আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু, তা জানতে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে (www.diabetes.org/risk-test) গিয়ে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিলেই তার জবাব পাবেন।

যে বিষয়গুলো আপনার ঝুঁকি বাড়ায়, তা হলো-

* বয়স ৪০ বছরের বেশি
* পরিবারে মা-বাবা বা নিকটাত্মীয়র ডায়াবেটিসের ইতিহাস
* ওজনাধিক্য বা স্থূলতা, বিশেষ করে শরীরের মধ্যভাগে চর্বির পরিমাণ বেশি (অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি)
* নারীদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস
* কায়িক শ্রমের অভাব বা অলস জীবনযাপন
* প্রি ডায়াবেটিস বা বর্ডার লাইন ডায়াবেটিসের ইতিহাস
* রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি, এইচডিএল কম যাদের
* যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে।

ডায়াবেটিস কি প্রতিরোধ করা যায়:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেষ্ট ও সচেতন হলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

* নিয়মিত সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।
* নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও শারীরিকভাবে সচল থাকুন। অথবা দৈনিক ৩০ মিনিট সকালে বা বিকেলে হাটুন।
* শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখুন।
* যাদের পারিবারিক ইতিহাসে ডায়াবেটিস রয়েছে বা ডায়াবেটিস এর অন্যান্য ঝুঁকি আছে, তারা নিয়মিত রক্তের শর্করা মাপুন। প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণ করুন।

সান নিউজ/এফএইচপি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

মস্কোয় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা

রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে দুজন নিহত ও ছ...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

সরকারের সাফল্য স্বাস্থ্যখাতের ওপর নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারের বড় সাফল্য অনেকটাই স্বাস্থ্যখাতের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন স...

বিটিভির সাবেক মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম রবু মারা গেছেন

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাব্যবস্থ...

বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল...

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল...

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে নেও...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা