আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন ছেড়েছেন ৩০ লাখ মানুষ

সান নিউজ ডেস্ক : রুশ আগ্রাসন থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ ইউক্রেনীয়। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোতে অভিযান সীমিত রাখা হয়েছিল। এ কারণে পূর্বাঞ্চলের অনেক শহর থেকে অনেকেই ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ ও তার আশপাশের শহরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান

এদিকে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলেও রুশ বাহিনীর গোলাগুলি ও বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মলদোভায় আশ্রয় নিচ্ছেন বহু নিরুপায় ইউক্রেনীয়।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ।

৪০ বছর বয়সী ঝান্না তাদেরই একজন। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর এবং সাবেক সোভিয়েত আমলে দেশটির রাজধানী খারকিভে স্বামী-সন্তান ও শাশুড়িসহ বসবাস করতেন তিনি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ঝান্না জানান, খারকিভে রুশ হামলা শুরুর পর সপরিবারে কিরোভোরাদ শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। এই শহরটি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের কাছাকাছি।

আরও পড়ুন: কারা পাচ্ছেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’

ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী পোল্যান্ডের শেমিশেল শহরের এক রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়টার্সকে তিনি বলেন, লভিভে হামলার আগ পর্যন্ত আমরা সবাই পশ্চিম ইউক্রেনকে নিরাপদ ভেবেছিলাম। এ কারণের খারকিভ থেকে কিরোভোরাদ এসেছিলাম।

কিন্তু একসময় যখন লভিভ ও কিরোভোরাদে বোমাবর্ষণ শুরু হলো, তখন বাধ্য হয়ে সন্তান ও শাশুড়িসহ এখানে (পোল্যান্ডে) এসে আশ্রয় নিই। আমার স্বামী এখনও ইউক্রেনে আছেন।

রোমানিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্ত সিরেত সীমান্তেও গত কিছুদিন ধরে শরণার্থীদের স্রোত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাতের বেলা তাপমাত্রা যখন মাইনাস ২ ডিগ্রিতে নেমে যায়—তখনও স্যুটকেস, ব্যাপপ্যাকসহ শিশুদের কোলে নিয়ে ক্লান্ত পদক্ষেপে চলেন ইউক্রেনের নারীরা। শিশুদের অনেকের হাতেই হয়তো থাকে টেডিবিয়ার বা এ জাতীয় কোনো পুতুল।

অবশ্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রোমানিয়ায় পৌঁছালে আপাতত নিশ্চিন্ত। কারণ, সেখানে শরণার্থীদের গ্রহণ ও তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন রোমানিয়ার দমকল বাহিনীর কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

আরও পড়ুন: কিয়েভে কারফিউ ঘোষণা

কিন্তু এই যুদ্ধের কারণে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া ইউক্রেনীয়রা কী পরিমাণ মনোকষ্টে আছেন, তার আঁচ পাওয়া যায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিয়েকোলাইভ থেকে রোমানিয়ায় আশ্রয় নিতে আসা তানিয়ার কথায়।

রয়টার্সকে তানিয়া বলেন, এখানে আসার সময় পুরো পথ আমি কাঁদতে কাঁদতে এসেছি, আমি আমার দেশকে ভালবাসি। আমি ইউক্রেনে বসবাস করতে চাই, কিন্তু তা আমি এবং আমার মতো অনেকেই তা পারছে না, কারণ, তারা (রুশ বাহিনী) সবকিছু ধ্বংস করছে।

ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ অভিযান শুরুর প্রথম দিকে যারা ইউক্রেন থেকে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগের হাতেই পর্যাপ্ত অর্থ ও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতে আশ্রয় দেওয়ার মতো বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন ছিল। কিন্তু বর্তমানে যারা শরণার্থী হিসেবে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগরই এই সুবিধা নেই।

ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা তাতিয়ানা শাবাক এ সম্পর্কে বলেন, অনেক বয়স্ক ও শারীরিকভাবে পঙ্গু লোকজন এখন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। এদের বেশিরভাগই আশা করেছিলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার

তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই যারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইউক্রেনে ফিরেও যাচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশ মলদোভায় আশ্রয় নেওয়া ল্যুদমিলা তাদেরই একজন। রয়টার্সকে তিনি আরও বলেন, আমি একটি স্কুলে পড়াতাম। যে শহরে আমি থাকতাম, শুনলাম সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তাই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ রকম আরও একজন নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে রয়টার্সের। শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনে ফিরতি পথ ধরা সেই নারী বলেন, আমরা বাড়ি ফিরে যেতে চাই।

সাননিউজ/এমআরএস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

মস্কোয় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা

রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে দুজন নিহত ও ছ...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

ইংল্যান্ড দল থেকে সরে দাঁড়ালেন কোল পালমার

ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলে ফের ডাক পেলেও ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে সরে দাঁড়াচ...

বিশ্বমঞ্চে দেশের মানুষের কথা বলবেন তারেক রহমান

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা