সংগীতের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম শচীন দেব বর্মণ, যাঁকে সবাই পরম শ্রদ্ধায় শচীন কর্তা বলেই চেনে। আজকের এই দিনে কুমিল্লার রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া এই ক্ষণজন্মা গুণী মানুষটি বাংলা ও ভারতীয় সংগীতজগতে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সুরের আবহে বড় হয়েছিলেন তিনি। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণ ছিলেন ধ্রুপদী শিল্পী ও সেতারবাদক, আর মা নিরুপমা দেবী এসেছিলেন মণিপুরি রাজবংশ থেকে। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে কলকাতায় গান গেয়েই ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁর মতো কিংবদন্তিদের মন জয় করেছিলেন তিনি। কবি জসীমউদ্দীনের কথায় তাঁর গাওয়া ‘নিশিথে যাইয়ো ফুলবনে’ গানটি একসময় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল।
চলচ্চিত্রের জগতে নিজের জাদুকরি সুরের দ্যুতি ছড়াতে একসময় বোম্বে চলে যান কর্তা। সেখানে একের পর এক ছবির গানে এমন সব সুরের মূর্ছনা তোলেন, যা আজও শ্রোতাদের শিহরিত করে। লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি কিংবা আশা ভোসলের মতো জীবন্ত কিংবদন্তিরা তার সুরে নিজেদের কণ্ঠ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘সংগীত নাটক একাডেমি’র মতো মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ঝুলিতে ভরেছেন এই সুরকার।
যদিও ১৯৭৫ সালের অক্টোবরে তিনি আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন, তবুও ‘শোনো গো দখিনো হাওয়া’ কিংবা ‘তুমি এসেছিলে পরশু’র মতো কালজয়ী সৃষ্টিগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছেন।
সান নিউজ/রাজীব