সংযুক্ত আরব আমিরাতের জমজমাট ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি’ (আইএল টি-টোয়েন্টি)-এর আসন্ন মেগা নিলামে আলো ছড়াতে প্রস্তুত বাংলাদেশের এক দল ক্রিকেটার। টুর্নামেন্টের আগামী আসরকে সামনে রেখে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের মোট ১০ জন তারকা ক্রিকেটার। বিশ্বমঞ্চের বাঘা বাঘা সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই টেবিলে কাতারবন্দী হয়েছেন দেশের লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা নিঃসন্দেহে দেশীয় ক্রিকেটের জন্য একটি দারুণ প্রাপ্তি।
এবারের নিলামের জন্য বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের তিনটি আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি, যেখানে নাম লিখিয়েছেন দেশের পেস আক্রমণের ধারালো অস্ত্র তাসকিন আহমেদ, গতির ঝড় তোলা তরুণ পেসার নাহিদ রানা এবং উদীয়মান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। এই তিন তারকার প্রত্যেকের জন্য ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮ লাখ টাকারও বেশি। এই অভিজাত ক্যাটাগরিতে তাদের সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বড় নাম যেমন—বাবর আজম, ফাফ ডু প্লেসি, জনি বেয়ারস্টো, ফিল সল্ট ও অ্যালেক্স হেলসদের মতো তারকারাও অবস্থান করছেন।
তালিকায় থাকা বাকিদের মধ্যে দ্বিতীয় সারির ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, টেস্ট ও ওয়ানডে দলের পরিচিত মুখ নাজমুল হোসেন শান্ত, এবং দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। এই চার অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রত্যেকের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৪৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া একেবারে প্রাথমিক বা ১০ হাজার ডলারের (প্রায় ১২ লাখ টাকা) ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, উইকেটকিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিক এবং পেসার তানজিম হাসান সাকিবকে।
এদিকে টুর্নামেন্টের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি দলের জন্য মূল বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ১৩ লাখ ডলার। এর সঙ্গে প্রি-অকশনের জন্য নির্ধারিত ৭ লাখ ডলারের অব্যবহৃত অর্থ যোগ করারও সুযোগ রাখা হয়েছে। এই নিয়মের সুবাদে সর্বোচ্চ ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার বাজেট নিয়ে নিলামে নামছে এমআই এমিরেটস। ঠিক পরেই রয়েছে আবুধাবি নাইট রাইডার্স, যাদের হাতে রয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। এ ছাড়া ডেজার্ট ভাইপার্স ও গালফ জায়ান্টসের ব্যালান্স ১৩ লাখ ৫ হাজার ডলার। তবে দুবাই ক্যাপিটালস এবং শারজা ওয়ারিয়র্স তাদের প্রি-অকশনের পুরো অর্থ আগেই খরচ করে ফেলায় কেবল মূল ১৩ লাখ ডলারের বাজেট নিয়ে লড়াইয়ে নামবে। এর মধ্যে দুবাই ক্যাপিটালস অবশ্য সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইতিমধ্যেই নিজেদের দলে নিশ্চিত করে রেখেছে।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি সৌদি আরব ও কুয়েতসহ মোট ২৩টি দেশের প্রায় ২০০ জন বাঘাবাঘা ক্রিকেটার চূড়ান্ত নিলামের এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। যদিও প্রাথমিক তালিকায় চার শতের বেশি খেলোয়াড় নাম রেজিস্ট্রি করেছিলেন, সেখান থেকে বাছাই করে এই সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জমজমাট ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে আইএল টি-টোয়েন্টির পঞ্চম আসর। এখন দেখার বিষয়, নিলামের টেবিলে দলগুলোর লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশি তারকা আমিরাতের এই রঙিন মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পান।
সান নিউজ/রাজীব