আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে

সান নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সময় ধরে চলা রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় ইউক্রেনকে সহযোগিতায় ইউরোপীয় দেশগুলোসহ পশ্চিমারা মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র সহায়তা নিয়ে মাঠে নামলেও তাতে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা কমেনি।

আরও পড়ুন: আমরা মাছে ভাতে বাঙালি

আর তাই পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। আর এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে হাঙ্গেরি। শনিবার (২৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ।

বলা হয়েছে, ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। আর তাই ইউক্রেনের যুদ্ধের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন কৌশল নেওয়া দরকার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ইউএনও’র ভাষা মাস্তানের চেয়েও খারাপ

শনিবার রোমানিয়ায় এক বক্তৃতায় অরবান এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘(রাশিয়ার বিরুদ্ধে) নতুন একটি কৌশল নেওয়া প্রয়োজন, যেখানে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরিবর্তে... শান্তি আলোচনা এবং ভালো একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা যাবে।’

আলজাজিরা বলছে, টানা চতুর্থ মেয়াদের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ভিক্টর অরবান। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হলেও প্রতিবেশী ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে হাঙ্গেরি দূরে থাকবে বলে বারবারই বলে এসেছেন তিনি।

অবশ্য ২০১০ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভিক্টর অরবান তার সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি দুই অংকের ঘরে পৌঁছে গেছে, হাঙ্গেরীয় মুদ্রা ফরিন্ট দুর্বল হয়েছে। এছাড়া গণতান্ত্রিক মান নিয়ে ব্রাসেলসের সাথে বিরোধের কারণে ইইউ তহবিল এখনও আটকে আছে।

অরবান এর আগে বলেছিলেন, রাশিয়ান গ্যাস আমদানির ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা সমর্থন করতে ইচ্ছুক নয় হাঙ্গেরি। কারণ এটি তার দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করবে। হাঙ্গেরি মূলত রাশিয়ান গ্যাস আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে থাকে।

আরও পড়ুন: ভারতের দিল্লিতে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত

শনিবার নিজের বক্তৃতায় ভিক্টর অরবান বলেন, ইউক্রেনের বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশলটি চারটি স্তম্ভের ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- ইউক্রেন ন্যাটোর অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিততে পারে, (পশ্চিমাদের) নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে দুর্বল করবে এবং মস্কোর নেতৃত্বকে অস্থিতিশীল করবে, আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ইউরোপের চেয়ে রাশিয়ার বেশি ক্ষতি করবে এবং গোটা বিশ্ব ইউরোপের সমর্থনে সক্রিয় হবে।

তবে অরবান বলছেন, রাশিয়াকে নিয়ে পশ্চিমাদের এসব কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইউরোপের দেশগুলোর সরকার ‘ডোমিনোর মতো’ ভেঙে পড়ছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। আর তাই এখন নতুন কৌশল নেওয়া প্রয়োজন।

অরবান তার সমর্থকদের বলেন, ‘আমরা এমন একটি গাড়িতে বসে আছি যার চারটি টায়ারই পাংচার হয়ে গেছে: এটা একেবারে পরিষ্কার যে এইভাবে যুদ্ধ জেতা যাবে না।’

তিনি বলেন, ইউক্রেন এভাবে কখনোই যুদ্ধে জিততে পারবে না। কারণ রাশিয়ান সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য রয়েছে। আর তাই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান অরবান।

আরও পড়ুন: পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই চালক নিহত

তিনি আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র রাশিয়া-মার্কিন আলোচনাই চলমান এই সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে পারে। কারণ রাশিয়া (নিজের) নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়, আর সেটি শুধুমাত্র ওয়াশিংটনই দিতে পারে।’

এছাড়া মস্কো আক্রমণ শুরুর আগে রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষা করার জন্য পশ্চিমা নেতাদেরও সমালোচনা করেন অরবান। তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্প এবং জার্মান চ্যান্সেলর (অ্যাঞ্জেলা) মেরকেলের থাকলে, এই যুদ্ধ কখনোই ঘটতো না।’

আরও পড়ুন: নারী নির্যাতনকারীর ছাড় নয়

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহীদের দুই রাষ্ট্র ‘দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক’ ও ‘লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক’কে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি রক্ষায় ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী পাঠায় রাশিয়া।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তার লক্ষ্যে মস্কো স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযানের নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

সান নিউজ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা