মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিতে হচ্ছে যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির রাজনীতিবিদ জ্যাক পোলানস্কিকে। একই সঙ্গে দলের ভেতরকার ইহুদি সদস্যদের আস্থায় নেওয়া এবং মতপার্থক্যের সুরাহা করার বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও তার সামনে রয়েছে। গ্রিন পার্টির এক সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণা থেকে সরে এসে এক রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর আগে নিউইয়র্ক ঘোষণায় দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্যাপক মতৈক্য প্রকাশ করেছিল। ২০০২ সালের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং তৎকালীন সৌদি নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য দুটি স্বাধীন ও সমান পক্ষের উপস্থিতি জরুরি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজা ও পশ্চিম তীরের জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখানকার মানুষের বড় একটি অংশ ১৯৬৭ সালের সীমানাভিত্তিক দুই রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বিপরীতে, একক কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমান অধিকারের দাবির পক্ষে সমর্থন মাত্র দশ শতাংশের মতো।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টির এই একক রাষ্ট্র নীতি ইউরোপের অন্যান্য দেশের গ্রিন দলগুলোর অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। ইউরোপীয় গ্রিন প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ইসরাইলি সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছেন। অনেক রাজনীতিক মনে করেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ফিলিস্তিনবাসীকে প্রান্তিক করে রাখছে। তবে চলমান রক্তক্ষয় ও ধ্বংসের মুখে দুই রাষ্ট্র বা কনফেডারেশনের মতো বিকল্প মডেল নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।
এদিকে গ্রিন পার্টির এই বিতর্কিত নীতিটি পাস হয়েছে মাত্র দুই শ ভোটের ব্যবধানে, যা দলের মোট সদস্যসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। দলটির নেতা জ্যাক পোলানস্কি নিজেও একজন ইহুদি এবং তিনি বর্তমানে লন্ডনের একটি উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পার্টির নতুন প্রস্তাবনায় জায়নবাদকে ফিলিস্তিনের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর আধিপত্য বিস্তারের মতাদর্শ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ইহুদি নাগরিক জায়নবাদকে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হিসেবেই বিবেচনা করেন। ফলে দলের ভেতরে ইহুদিবিদ্বেষ ও মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, জায়নবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো সমতা আইন অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। যদিও পোলানস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের কারণে দলের কাউকে বর্জন করার নীতি তিনি সমর্থন করেন না। তার পরও গ্রিন পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোর দ্রুত সংস্কার এবং নীতিগত এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান বের করা এখন সময়ের দাবি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দলের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্য অর্জনে পোলানস্কিকে অত্যন্ত সতর্ক ও পরিপক্ব কূটনীতির পরিচয় দিতে হবে।
সান নিউজ / রাজীব