পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক ও তীব্র অভিযানে ১৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, 'আজম-ই-ইস্তেহকাম' নামক বিশেষ দর্শনের আওতায় এই সফল অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তান টেলিভিশনের প্রতিবেদনে প্রকাশ, খাইবার পাখতুনখাওয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো একটি বিশেষ অভিযানে ১৩ জন নিহত হন। দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি গোষ্ঠীর দমনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের মাস্তুং জেলায় পরিচালিত পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও ৫ জন নিহত হয়েছে। বেলুচিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দমনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে 'অপারেশন রদ্দ-উল-ফিতনা ৩' কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই সমস্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ বা পিকস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এই দুই প্রদেশে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুতর নিরাপত্তা সংকট বিরাজ করছে। পরিসংখ্যান বলছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা বিগত মাসের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, বেলুচিস্তানেও হামলা বেড়ে যাওয়ায় প্রদেশটিকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরু এবং পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে উত্তর ওয়াজিরিস্তান, মির আলী, বারা এবং ডেরা ইসমাইল খানের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গোয়েন্দা অভিযান পরিচালিত হয়। এই ধারাবাহিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ডিআই খানের দারাজিন্দা তহসিলে আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন এবং কোহাটের ওল্ড পুলিশ লাইন্সে সংঘটিত বড় ধরনের হামলায় ২৩ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের চাগাই, শাবান, আওয়ারান, জিয়ারত ক্রস ও পিশিন এলাকায় চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে বিগত কয়েক সপ্তাহে শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি নির্মূল হয়েছে বলে জানা গেছে।
সান নিউজ / রাজীব