শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, দীর্ঘ সময় ক্লাস এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে এ আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এদিন সড়কে নেমে প্রায় দুই হাজার স্কুলের কার্যক্রমে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা।
তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ফ্রান্সে মুসলিমরা দেশটি দখলের চেষ্টা করছে। ব্যাপকহারে অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা ব্যাপক অভিবাসনের কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া পরিস্থিতির চেয়ে কম কিছু নয়। এটি কোনো স্কুলের বিষয় নয়, এটি ইসলামের বিষয়—যা একসময়কার মহান দেশ ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্লাস চালানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং দুপুরের খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর সরকারি পরিকল্পনা থেকে সরে আসাও শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি। আন্দোলনের মুখে এ বিষয়ে ফরাসি সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
সান নিউজ/ রাব্বি