সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক নিয়ে কিছুদিন ধরে নানা গুঞ্জন চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে অন্য কথা। মতপার্থক্য ভুলে এই দুই শক্তিধর দেশ ফের বন্ধুত্বের পথে হাঁটছে। কিছুদিন আগে আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রিয়াদ সফর করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দুই দেশের গণমাধ্যমেও এই সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও গভীর অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে গত কয়েক বছর ধরে উপসাগরীয় এই দুই দেশের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন চলছিল। বিশেষ করে ইয়েমেন সংকট, সুদান ও ইরান ইস্যু এবং অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ইয়েমেনে সৌদি আরব যখন পুরো দেশকে হুথিমুক্ত করতে চেয়েছিল, আমিরাত তখন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যুদ্ধ থেকে সরে আসার পথ ধরে। এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস' চুক্তিতে আমিরাত যোগ দিলেও সৌদি আরব দূরত্ব বজায় রেখেছিল।
কিন্তু বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইরান ও হুথিদের হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে রিয়াদ ও আবুধাবির নীতিনির্ধারকদের মনে হয়েছে, আলাদা থাকার চেয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। বিশেষ করে হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় এবং ইরানের ওপর যৌথভাবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এখন আর সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না। বরং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা পুরোনো দূরত্ব মিটিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে চাইছে। আর এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এই দুই পুরোনো মিত্রের মেলবন্ধন নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।
সান নিউজ/রাজীব