ফিচার

জনবল সঙ্কটে খুঁড়িয়ে চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা

আমিরুল হক, নীলফামারী: জনবল সঙ্কটে খঁড়িয়ে চলছে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। দিনদিন দক্ষ শ্রমিক অবসরে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অত্যাধুনিক মেশিনপত্র স্থাপন করা হলেও কাঙ্খিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া অনেক যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই। দ্রুত নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ না হলে অচল হয়ে পড়বে শত বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটি। শহর গঠিত হওয়ার আগে সৈয়দপুর সেই সময়ের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। এখানে রেলওয়ে ওয়ার্কশপকে কেন্দ্র করেই ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে থাকে এবং সৈয়দপুর শহরের গোড়াপত্তনও এই রেলওয়ে কারখানাকে ঘিরে।

কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭০ সালে। যা বর্তমান বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা। ঐতিহাসিক এই কারখানাটি প্রায় ১০০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এখানে ১৯৩০ সালে কারখানার পাশাপাশি একটি রেলওয়ে স্টেশন ও প্রতিষ্ঠা করা হয়। ধীরে ধীরে শহরটি রেলওয়ে শহর হিসেবে পরিচিতি পায় এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরিবহনের ক্ষেত্রে সৈয়দপুর বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুরসহ ৮টি জেলার ব্যবসায়িক করিডোর হিসেবে পরিচিত।

কারখানা সুত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সরকার ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি আধুনিকায়নের প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের আওতায় ব্রডগেজ ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগি এবং ওয়াগন মেরামত করা হয়। ৪৩ ধরনের মেকানিক্যাল ও ১৩ ধরনের ইলেকট্রিক্যাল প্লান্টস অ্যান্ড মেশিনারিজ প্রতিস্থাপন করা হয়।

এছাড়া ডিপটিউবওয়েল স্থাপনসহ একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দক্ষ জনবলের সঙ্কটে আধুনিকায়নের কোনো সুফলই মিলছে না। কারখানাটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর ২ হাজার ৮৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭০০ জন। বিদ্যুৎ বিভাগে ৪১৩ জনের বিপরীতে কর্মরত ১৪৯ জন।

এ কারণে বর্তমানে কারখানায় ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন তিন ইউনিট ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও হচ্ছে দুটি ইউনিট। এক সময় এ কারখানায় ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের ১ হাজার ২০০ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হলেও বর্তমানে তা ক্রয় নির্ভর হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, বেশির ভাগ সময়ই মালামাল কেনার দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা হয়। ফলে বগি ও ওয়াগন মেরামতের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান সময় মতো আসে না। অনেক সময় নিন্মমানের মালামালও চলে আসে। সেগুলো ঠিকঠাক করতে গিয়ে অতিরিক্ত জনবল, কর্মঘণ্টা ও বিদ্যুতের অপচয় হয়।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) জয়দুল ইসলাম বলেন, বর্তমান শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতার কারণে জনবল সংকট সত্ত্বেও প্রতিদিন দুই ইউনিট ক্যারেজ মেরামত করা হচ্ছে। তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে উপকৃত হবে কারখানাটি।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

রাঙ্গাবালীর কৃত্রিম খালে লবণাক্ত পানি প্রবেশে কৃষকদের হাহাকার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জুগির হাওলা গ্রামে এ...

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তৎপর রয়েছে পাকিস্তান : শেহবাজ শরীফ

শান্তি ফেরাতে তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্...

পঞ্চগড়ে ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালি...

বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম দিদার (৮৫...

অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে আটক ৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে য...

কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা,আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ৮ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের

ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক ন...

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা