১০ মাস ধরে বেতন পায়না রেলওয়ের গেটম্যানরা
সারাদেশ
ঈদ আনন্দ নেই 

১০ মাস ধরে বেতন পায়না রেলওয়ের গেটম্যানরা

শওকত জামান জামালপুর : গরিবের আবার ঈদ। আমগো ঈদ কিসের। বাপ হয়ে সন্তানের ঈদের বায়না মেটাতে পারি না। নতুন কাপড় কিনে দিতে সন্তানদের কান্না সইতে না পেরে বোবা হয়ে আছি। পেটের ভাত যোগাতেই হিমশিমে পড়তে হয় সেখানে ঈদে বাজার সদাই,স্ত্রী সন্তানের ঈদের বাইনা মেটামো কিভাবে।

আরও পড়ুন : মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর

১০ মাস ধরে বেতন পাই না। চলতি মাসেও বেতন হইনাই। ঋন দেনা করবো সেই উপায়ও নেই। বেতন বন্ধ থাকায় কেউ ধারদেনাও দিতে চায় না। সন্তান স্ত্রীর মুখে হাঁসি ফোটাতে নতুন কাপড় চোপড় কিনে দিবো সেই যো নেই।

ঈদে পরিবারের মুখে সেমাই তুলে দিতে দিবো সেমাই কেনারও টাকা পকেটে নেই। কি করবো চিন্তায় আছি। বিভিন্ন রেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বরতদের সাথে কথা বললেই এভাবেই ঈদের সামনে তাদের কষ্টমাখা কথাগুলো জানালেন।

আরও পড়ুন : কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ৪

সড়ক পথে রেলক্রসিংয়ে যানবহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে বুকে কষ্ট নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে গেট ব্যারিয়ারে কর্মরত গেটম্যানরা।

জামালপুরে রেলওয়ের রাজস্ব খাতে(TLR) প্রকল্পের আওতায় রেল ক্রসিংয়ের গেট ব্যরিয়ারে গেটম্যান নিয়োগ পেয়েছেন ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে। রেলক্রসিংয়ে গেট ব্যারিয়ার ফেলে সড়ক চলচলরত যানবহন ও পথচারী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এই গেটম্যানরা।

আরও পড়ুন : ঈদ উপলক্ষ্যে বেড়েছে গোশতের দাম

রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করলেও জুলাইয়ের ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বেতন ভাতা পাননি তারা। ১০ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন ঝাপন করলেও প্রকল্পের অধীনে চাকরি করায় এ বিষয়ে তাঁরা প্রতিবাদও করতে পারেন না।

কথা হয় একাধিক গেটম্যানের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘কী কারণে বেতন পেলাম না তা জানি না। আশায় ছিলাম ঈদের আগে বেতন পাব, বউ পোলাপান নিয়ে আনন্দে ঈদ করব, কিন্তু তা আর হলো না।’

জামালপুর-সরিষাবাড়ি রেলপথে দামেস্বর রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেইটম্যান মোস্তাক আহমেদ জানান, ১০ মাস ধরে বেতন পাইনা। অভাবের সংসারে টেনেটুনে কোনমতে চলছে।

আরও পড়ুন : ২১৯ শিশু ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত

কিন্তু অবুঝ সন্তানরা বুঝবে আমার অবস্থা। ঈদের বায়না ধরে কান্নাকাটি করছে। বাবা জামা কাপড় জুতা কিনে দাও। ওদের মুখের দিকে তাকাতে পারিনা। কি করবো বুঝতে পারছিনা।

জামালপুর-শেরপুর বাইপাস রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত সোহাগ মিয়া জানান, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। বেতন না পাওয়ায় পেটে ভাতই জুটছেনা ঈদের বাজার, বউ বাচ্চাদের নতুন কাপড় কিনবো ক্যামনে। দারদেনা করতে করতে বেতন বন্ধ থাকায় এখন কেউ দারদেনাও দিতে চায় না। কি করবো চোখে অন্ধকার দেখতাছি।

আরও পড়ুন : গোপনে দেশ ছাড়লেন হাজী সেলিম

সবাই যখন আনন্দ উল্লাসে ঈদ উদযাপন করবে তখন রেলওয়ের গেটম্যানদের ঘরে ঘরে কান্নার রোলে চোখের জ্বলে কাটবে ঈদের দিন।

উর্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (পথ) আবু সাঈদ হাসান বলেন, বাজেট হয়ে গেছে। তবে ঈদের আগে বেতন পাওয়ার সম্ভবনা নেই। ঈদের পর গেইটম্যানরা বেতন পাবেন বলে আশারবানী শুনালেন এই কর্মকর্তা।

সান নিউজ/আরএ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

পঞ্চগড়ে ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালি...

মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আ'লীগ কর্মীকে হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নে...

জামিন পেলেন পরীমনি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদাল...

সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল হাইয়ের জন্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

মুন্সীগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক উপমন্ত্রী,...

কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা,আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ৮ মামলা, গ্রেপ্তার ৩০

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও...

রায়পুরা সরকারি কলেজে এমপি বকুলকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নরসিংদীর রায়পুরা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজের সাবে...

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের

ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক ন...

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা