সারাদেশ

আজ ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও : আজ ৩ ডিসেম্বর। ৪৮তম ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয় এ জেলা। ৯ মাস মরণপণ যুদ্ধ শেষে বীরের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে জনমানবহীন শহরে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারণ করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা আর জয় বাংলার ধ্বনি শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তারা। উড়িয়েছিলেন স্বাধীন বাংলার পতাকা এই জেলার মাটিতে।

১৯৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাতে পাকসেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ বাংলাদেশি মানুষের ওপর। তাদের প্রতিরোধ করতে সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁওবাসীও গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন। মুক্তিকামী মানুষ তাই মুক্তির স্বাদ নিতে অংশ নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।

প্রায় ৮ মাস যুদ্ধের পর ৩০ নভেম্বর পঞ্চগড় হাতছাড়া হওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ে ঘাঁটি স্থাপন করে পাকবাহিনী। ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বালিয়ার ভুল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেন। ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী। ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। ২৬ মার্চ আমরা পিছু হটলেও পরবর্তীতে আমরা বেশি শক্তি নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধ করে বহু পাক সেনাকে খতম করি।

এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর বলেন, যুদ্ধে পাকসেনারা পিছু হটতে শুরু করে। ঠাকুরগাঁওয়ের অদূরে ভূল্লি ব্রিজ আমরা বোমা মেরে উড়িয়ে দিলে পাকসেনারা সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়। আমরা বীরের বেশে প্রবেশ করি ঠাকুরগাঁও শহরে।

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিবিদ মো. আকবর হোসেন বলেন, ‘ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কমান্ডার এলাহাবাদী ডিসেম্বরের ১ তারিখে আমাদের বললেন, আগামী পরশু আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে যেতে পারবো বলে আশা করছি।’ তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল জ্যাকব এর বইয়েও এই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।’

উদীচী জেলা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রশাসন দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে থাকে। নতুন প্রজন্ম এভাবে নিজ জেলা মুক্ত হওয়ার ইতিহাস জানতে পেরে দেশপ্রেমে জাগ্রত হয়। এ বছর জেলা আওয়ামী লীগও জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে দিবসটি পালনে কর্মসূচি দিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের দার্শনিক ভিত্তি সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহবুবুর রহমান বাবলু বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কখনও এটা ভেবে জীবন উৎসর্গ করেননি যে একদিন তাঁরা ভাতা পাবেন, বিশেষ সম্মান পাবেন। তাঁরা দেশমাতা ও জনগণের সামগ্রিক মুক্তির জন্যই জীবনবাজি রেখে লড়াই করে গেছেন। তাই এদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে একটি পৃথক দিবস ও প্রত্যেক জেলায় পৃথক গোরস্থানের দাবি জানান তিনি যাতে কোনও যুদ্ধাপরাধীর পাশে কোনও মুক্তিযোদ্ধার কবর না হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিজয় দিবসের পাশাপাশি ৩ ডিসেম্বর গর্বের সঙ্গে স্মরণ করুক এই জেলার মানুষ আর তা ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই প্রত্যাশা সকলের।

সান নিউজ/এসএম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে নিউমার্কেট, ব্যাহত যান চলাচল

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশে...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা