ফিফা আসিয়ান কাপে কাঙ্ক্ষিত জয় বা ফলাফল পক্ষে না এলেও লাল-সবুজের দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী মিডফিল্ডার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। সম্প্রতি ফিফাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধু মাঠের স্কোরবোর্ড দিয়ে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মাপা উচিত নয়। প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো তুলনামূলক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত শিখছে এবং লড়াই করার মানসিকতা প্রমাণ করছে বলেই মনে করেন এই তারকা।
টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে হামজা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই অভিজ্ঞতা তার জন্য দারুণ এক প্রাপ্তি। যদিও যাত্রাপথে নানা চড়াই-উতরাই ও কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবুও দল হিসেবে তারা কঠোর পরিশ্রম করে বড় কিছু অর্জনের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছেন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতির কারণে খেলায় ফিরতে বেগ পেতে হলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো ও পরিপক্ব ফুটবল খেলেছে বলে জানান তিনি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে মালয়েশিয়া প্রায় ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান সব সময় স্পষ্ট ছিল না। এ প্রসঙ্গে হামজা বলেন, এই উচ্চ পর্যায়ে সমানে সমানে লড়তে পারাটা আমাদের জন্য দারুণ ব্যাপার। র্যাঙ্কিংয়ের ফারাক মাঠে অনেক সময় বোঝা যায় না, যা প্রমাণ করে যে আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। তবে দল এখনই পূর্ণতা পেয়েছে এমনটা মনে করেন না তিনি। তার মতে, সাফল্যের ধাঁধার শেষ দুই-একটি টুকরো ঠিকঠাকমতো মেলানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ, যা তারা খুব দ্রুতই সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।
সামনের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই মিডফিল্ডার জানান, আগামী নভেম্বর মাসে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে দল। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের রোমাঞ্চের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যালারিতে স্বাগতিক দর্শকদের তুমুল উল্লাস এবং ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে গড়া ইন্দোনেশিয়ার শক্তিমত্তা মোকাবিলা করাটা দলের জন্য আরেকটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। শক্তিশালী এসব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়তেই মূলত তারা এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।
প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়া সফরে এসে দেশটির মানুষের বন্ধুত্বসুলভ আচরণ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা দারুণভাবে উপভোগ করছেন হামজা। যদিও সেখানকার আবহাওয়া তার জন্য একটু উষ্ণ, তবুও পরিবার ও বন্ধুদের ইতিবাচক কথার সঙ্গে নিজের বাস্তবের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এই সফরটিকে তিনি বেশ স্মরণীয় করে রাখছেন।
সান নিউজ/রাজীব