জাতীয়

‘পীরের কাণ্ড-কেরামতি দেখুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি মিথ্যা মামলা দিলেই তো মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। অথচ জমির জন্য মুরিদ দিয়ে মিথ্যা মামলা করছে পীর এটা কোন কাজ হলো বলে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট।
৪৯ মামলার চক্করে পড়া ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) আদালত এসব কথা বলেন।

একরামুল আহসান নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা মামলার নেপথ্যে এক পীর ও তার অনুসারীদের জড়িত থাকার তথ্য এসেছে সিআইডির ওই প্রতিবেদনে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। সেখানে হাইকোর্ট এই বক্তব্য দেন।

শুনানিকালে আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন। জায়গা জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন দেখেন। সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করেছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন।

ধর্ষণ, মারধর, চুরি, মানব পাচার—এমন সব অভিযোগে দেশের ১৩টি জেলায় করা ২০টি মামলার চক্করে রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা একরামুল আহসানকে ১ হাজার ৪৬৫ দিন কারাভোগ করতে হয়। এ অবস্থায় জামিনে বের হয়ে ওই সব মামলা ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে মামলা দায়েরে সম্পৃক্ত বা বাদীকে খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ জুন হাইকোর্টে রিট করেন ৫৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী একরামুল।রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৪ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

হাইকোর্ট ওই সব মামলা দায়ের ও তার পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।

অন্যদিকে একরামুলের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলার কয়েকজন বাদী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন, আইনজীবী এমাদুল হক বশির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। একরামুলের বিরুদ্ধে মামলাকারী আফজাল হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ।

শুনানিতে আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ২০ নম্বর বিবাদী (আফজাল হোসেন) এর পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। হাইকোর্টের আদেশ ৫ সেপ্টেম্বর স্থগিত করা হয়।

আদালত বলেন, তাহলে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তদন্ত স্থগিত করলে তদন্তও করা যাবে না। ওয়াজি উল্লাহ বলেন, যাবে।

এ সময় আইনজীবী এমাদুল হক বশির বলেন, ৪৯ টি মামলা হলেও ২০ টি মামলা নিয়ে রিট। ২০টি মামলার পাঁচজন বাদী আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। তাঁদের মামলার ক্ষেত্র হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হয়েছে শুনেছি। তবে কপি পাইনি। আদালত বলেন, কপি নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেন। আপিল বিভাগের আদেশ নিয়ে আসেন। এই সপ্তাহের জন্য বিষয়টি মুলতবি রাখা হলো।

সিআইডির প্রতিবেদনে যা রয়েছে: সিআইডির প্রতিবেদনের ভাষ্য, একরামুল আহসান কাঞ্চনের তিন ভাই এবং এক বোন। ১৯৯৫ সালে তাঁর বাবা ডা. আনোয়ারুল্লাহ মারা যান। রাজারবাগ দরবার শরিফের পেছনে ৩ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা পৈতৃক বাড়ি তাঁদের। বাবার মৃত্যুর পর কাঞ্চনের বড় ভাই আক্তর-ই-কামাল, মা কোমরের নেহার ও বোন ফাতেমা আক্তার পীর দিল্লুর রহমানের মুরিদ হন। কিন্তু রিট আবেদনকারী ও তাঁর আরেক ভাই ডা. কামরুল আহসান বাদলকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করেও ওই পীরের মুরিদ করা যায়নি। এর মধ্যে একরামুল আহসান কাঞ্চনের মা, ভাই ও বোনের কাছ থেকে তাঁদের পৈতৃক জমির অধিকাংশই পীরের দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করা হয়। আর একরামুল আহসান কাঞ্চন ও তাঁর ভাইয়ের অংশটুকু পীর এবং তাঁর দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করার জন্য পীর দিল্লুর এবং তাঁর অনুসারীরা বিভিন্নভাবে চাপ দেন। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে একরামুল আহসান কাঞ্চনের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। সে শত্রুতার কারণেই একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে পীর দিল্লুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সর্বমোট ৪৯টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে জিআর মামলা ২৩টি এবং সিআর মামলা ২৬টি। ইতিমধ্যে জিআর ১৫টি মামলা এবং সিআর ২০টি মামলায় আবেদনকারী আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। আরও বলা হয়, অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যার চেষ্টা মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও ধর্তব্য ধারায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মামলা করা হয়েছে। অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভুক্তভোগীরা কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার শরীফ এবং ওই দরবার শরিফের পীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সান নিউজ/এফএআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা