জাতীয়
চউকের জলাবদ্ধতা প্রকল্প

মেয়াদ শেষ হলেও কাজ বাকী অর্ধেক!

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম ব্যূরো:
চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত তেমন বৃষ্টি হয়নি। তবে বর্ষা শুরুর পর থেকে ভারী বৃষ্টির আভাস মিলছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস থেকে। তাতে চট্টগ্রাম নগরবাসীর বুকে কম্পণ সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতার। কারণ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি এখনো।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) বলছে, মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এ পর্যন্ত। সেই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েকটি খালের মুখ ভরাট রয়েছে। ফলে ভারী বর্ষণ হলে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিবে।

এ কথা স্বীকার করেন চউকের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসও। তিনি বলেন, ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু করে চউক। যা ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। কাজ শেষ হয়েছে মোট প্রকল্পের ৫০ শতাংশ।

তিনি বলেন, মহামারি করোনার কারণে প্রকল্পের অর্থছাড় ঠিকভাবে হয়নি। এখনও প্রকল্পাধীন কিছু ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বাকি। তাই কাজ শেষ করতে সময় লাগবে। প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হলেও আমরা অর্থসংকটসহ নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারিনি। এবছরও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না। শেষ হতে আরও দুই বছর লাগবে। আমরা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করবো। এতে প্রকল্প ব্যয়ও বাড়বে।

তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের অধীন কর্ণফুলী সংযুক্ত পাঁচটি খালের মুখে স্লুইস গেট বা টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণ চলছে। এগুলোর জন্য কিছু যন্ত্রপাতি দেশের বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এগুলো আনতে সময় লাগছে। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এবং খাল ভরাট থাকায় অতিবর্ষণ হলে এবারও নগরবাসীকে পোহাতে হবে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।

সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৬টি খাল এবং এসব খালে সংযুক্ত আরো ২০টি খালসহ মোট ৩৬টি খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কথা প্রকল্প পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, ছয়টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপন, পাঁচটি টাইডাল রেগুলেটর বা স্লুইস গেট নির্মাণ, ১২টি পা¤প হাউজ স্থাপন, ৪২টি সিল্টট্রেপ স্থাপন এবং ২০০টি ক্রসড্রেন কালভার্ট নির্মাণ করার কথা।

কিন্তু প্রায় চার বছরে প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বর্ষা আসার আগেই চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রথম মাঝারি বৃষ্টিতে ঈদের দিন নগরীর অনেক এলাকা তলিয়ে যায় পানিতে।

কয়েকটি খাল পরিদর্শনে দেখা যায়, খালগুলোতে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। ময়লা নিষ্কাশনের কোনো কাজ চোখে পড়ার মতো না। স্থানীয়রাও সেখানে ময়লা ফেলছে অবাধে। খাল থেকে নালা সবখানে ময়লার ভাগাড়। পলিথিন, কর্কশিট, কাপড়, প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের অপচনশীল আবর্জনা জমে আছে খালগুলোতে।

নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান এ প্রসঙ্গে বলেন, খালগুলো পরিষ্কারের অল্পদিনেই পলিথিন ও বর্জ্য এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। গত বছর চট্টগ্রামে বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা ছিল না। ২০১৮-১৯ সালের মতো যদি এবার বৃষ্টি হয়, তাহলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। কারণ অনেকগুলো খালে বাঁধ দেওয়া আছে। সেগুলোতে রিটার্নিং দেয়ালের কাজ চলছে। এছাড়া বিকল্প খাল খননের কথা থাকলেও তা এখনও করতে পারেনি চউক। আশা করছি, চউক এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে সেবাসংস্থার সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাব্যতা ধরে রাখার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলোর সবই যে চউকের কাজ, এমন নয়। চট্টগ্রাম নগরকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশন ও সেবাসংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি তাদের পাহাড় কাটা বন্ধের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। নগরে পাহাড় কাটা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পাহাড়ের মাটি এসে নালা-নর্দমা ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে বর্ষায় চাপ সৃষ্টি হবে না।

জলাবদ্ধতা প্রকল্পের মূল অংশের কাজ বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী-৩৪ ইসিবি। তাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয় প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, যেহেতু চউকের প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করি, সেহেতু চউককে প্রস্তাব করেছি ৭০৯ কোটি টাকা দিতে। যদিও মন্ত্রণালয় ৫৩২ কোটি টাকা পুনঃবরাদ্দ করেছে। কিন্তু ৫৩২ কোটির টাকার মধ্যে হিজড়া খালের দু‘পাশে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ৩৫২ কোটি টাকা। তাই আমরা সুপারিশ করেছি, প্রকল্পের ভৌত কাঠামো এবং ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আলাদা বরাদ্দ দিতে। এরমধ্যেই ৫০ শতাংশ প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে। নগরের ৫টি খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর প্রক্রিয়াগত কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বাকি কাজটুকু স¤পন্ন করতে পারলে এবং পরবর্তীতে খালের ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করলে এ ৫টি খাল দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে না। বৃষ্টির পানিও নেমে যাবে।

সান নিউজ/ আইকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শুটিংয়ে অপ্রীতিকর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ রাধিকা আপ্তে

চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা ও শুটিং সেটে অস্বস্তিকর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রক...

নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর নানা লক্ষণও এখন দৃশ্য...

যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উ...

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দি...

ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে সহজ জয়ের পথে রয়েছে দেশট...

শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিলেন মেসি

ফুটবল মাঠের বাইরেও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন লিওনেল মেসি। এ...

বাংলাদেশ–ইউনান বাণিজ্য ছাড়িয়েছে ১৩০ কোটি ইউয়ান

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অর্থনৈতিক...

এমপি নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরু...

১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালে...

সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-চীন

সাইবার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা