বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার বঙ্গভবনে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছেন তার দফতর।
বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, আইটি, আউটসোর্সিং এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে কারিগরি, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে কানাডার গভর্নর জেনারেল লুইস আরবুর পক্ষ থেকে হাই কমিশনার রাষ্ট্রপতির কাছে একটি অভিনন্দনবার্তা হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি অভিনন্দনবার্তার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘকাল যাবৎ গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও সুযোগ রয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডা সরকারের সহযোগিতা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেছেন, তার সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদান করেছে।
রাষ্ট্রপতি এ ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস (Marcus Devies) উপস্থিত ছিলেন।E
‘কেয়ার বাংলাদেশ’
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার আর্ল রবার্ট মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল জানায়, কেয়ার বাংলাদেশ, দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি, তৈরি পোশাক খাতে মহিলাদের প্রশিক্ষণ, এবং এই খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে।
সংগঠনটি বিভিন্ন কৃষি প্রকল্প, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান তৈরি এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। কেয়ার বাংলাদেশের চারটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে এবং এগুলোর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি তাদেরকে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার এবং এই সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস উপস্থিত ছিলেন।
‘ইস্ট ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটির প্রতিনিধি দল’
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, প্রধান উপদেষ্টা ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারর্সন অধ্যাপক. মোম্মদ ফরাসউদ্দিন-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত আছে। মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃত্তি প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
সান নিউজ / মোশাররফ বাবলু